নিহত মোঃ বাচ্চু মিয়া © টিডিসি ফটো
সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোঃ বাচ্চু মিয়া (৩৫) নিহত হয়েছেন। রবিবার (৮ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সংঘটিত এক মিসাইল হামলায় তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত বাচ্চু মিয়া কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রামের মোঃ রইছ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদির আল-খারিজ শহরে সংঘটিত একটি মিসাইল হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাঁর মরদেহ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। বাচ্চু মিয়ার অকাল মৃত্যুতে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, বাচ্চু মিয়া অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতেন।
সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় কটিয়াদীর অন্যান্য প্রবাসীদের পরিবারেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বাচ্চু মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে এতিম হয়ে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তারও আবেদন জানিয়েছেন তারা।
কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে মক্কা প্রবাসী ইমরান হুসাইন জানান, সৌদির যে এলাকায় মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।