ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় © সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার দিনভর ঈদের মতোই চিত্র দেখা গেছে নগরজুড়ে। নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে যাওয়ার অন্য রকম আনন্দ বিরাজ করছে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে।
দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক ভিড়। তবে যাত্রী চাহিদার তুলনায় যানবাহন কম থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অনেককেই।
নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক যানবাহন রিক্যুইজিশন করায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। অনেক পরিবহন মালিক রিক্যুইজিশনের আশঙ্কায় গাড়ি রাস্তায় নামাননি। ফলে নগরীর টাউন হল মোড়, চরপাড়া, নতুন বাজার, কাচারিঘাট ও শম্ভুগঞ্জ এলাকায় সকাল থেকেই কর্মজীবী মানুষদের দীর্ঘ সময় যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও বাইপাস মোড় এলাকায় দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য টিকিট সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
ময়মনসিংহ নগরীতে কর্মরত জামালপুরের বাসিন্দা রায়হান উদ্দিন পরিবারসহ বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অফিস ম্যানেজ করে কিছুটা আগেভাগেই বের হয়েছি। কিন্তু সুবিধাজনক সময়ে বাসের টিকিট পাচ্ছি না। যেগুলো আছে, সেগুলো গভীর রাতের এবং পেছনের সারিতে। বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
একই অবস্থা দেখা গেছে আরও অনেক যাত্রীর মধ্যে। বিভিন্ন বাস কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন রুটের বেশিরভাগ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শুধু বাসস্ট্যান্ড নয়, রেলস্টেশনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি ট্রেনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেছে।
রেলওয়ের ময়মনসিংহ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রেলওয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নগরীর চরপাড়া এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আজ ভোটের আগে শেষ কর্মদিবস। অফিসে হাজিরা দিয়ে গ্রামে যাওয়ার কথা। কিন্তু সকালে রাস্তায় নেমে দেখি গাড়ি নেই বললেই চলে। কিছু অটোরিকশা দ্বিগুণ ভাড়া চাইছে। খুব বিপাকে পড়েছি।’
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনেও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোনের বার্তা ও কল রেকর্ডের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
শহর ও গ্রামজুড়ে সাজ সাজ রব। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হলেও চায়ের দোকান, বাজার ও আড্ডায় কে জিতবে, ভোটের পরিবেশ কেমন হবে এসব বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা।
ময়মনসিংহ-৪ আসনের দাপুনিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী রেজওয়ান খোকন পরিবারসহ ঢাকা থেকে ভোট দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার আর মিস করব না। সকালেই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব।’
ময়মনসিংহ নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সুন্দরভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।’
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামের দুলাল মিয়া বলেন, বাড়িতে লোকজন আসছে ঢাকা থেকে ভোট দেয়ার জন্য। অনেকেই রাস্তায় আছেন।
জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৮ জন বিদ্রোহী ও জামায়াতে ইসলামীর একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ময়মনসিংহে মোট ভোটার ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।