ঘরমুখো মানুষের ঢল © সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় রাজধানী ঢাকার অদূরে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাজার হাজার যাত্রীকে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে সড়কগুলোতে গাড়ির ধীরগতি এবং পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সরকারের নির্বাহী আদেশে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সুবিধার্থে ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি বহাল থাকায় সোমবার কারখানা ছুটির পরপরই শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সাভারের বাইপাইল, নবীনগর, আমিনবাজার, হেমায়েতপুর এবং আশুলিয়ার জামগড়া ও ডিইপিজেড এলাকায় দেখা যায় জনসমুদ্র। কেউ একা, আবার কেউ সপরিবারে ব্যাগ-পোটলা নিয়ে বাসের আশায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে শাস্তি দেবে না আইসিসি, ঘোষণা করল পুরস্কার
সাভার ও বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের সাথে কথা বলে উঠে এসেছে চরম দুর্ভোগের চিত্র।
বগুড়াগামী যাত্রী সুলতানা নাসরিন তার ১৬ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, দীর্ঘ অপেক্ষায় শিশুটি ক্লান্ত হয়ে পড়ায় সড়কের পাশেই তাকে খাওয়াতে হচ্ছে। একদিকে গাড়ির অভাব, অন্যদিকে যে দু-একটি গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে তারা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে।
একই চিত্র দেখা গেছে নাসিমা বেগমের ক্ষেত্রেও। গাইবান্ধাগামী এই নারী শ্রমিক জানান, ছুটি পেলেও এখনো বেতন পাননি। তার ওপর বিকাশ বা রকেট থেকে টাকা ‘ক্যাশ আউট’ করতে পারছেন না। নাসিমা অভিযোগ করেন, ‘৫০০ টাকার ভাড়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। দুই বাচ্চা নিয়ে মাঝরাস্তায় বসে আছি, যাওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।’
যাত্রীদের বড় একটি অংশ প্রশাসনের তদারকি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাসান আলী নামে এক যাত্রী বলেন, ‘টিভিতে বলা হচ্ছে ভাড়া বেশি নেওয়া হবে না, নিরাপত্তা থাকবে। কিন্তু কাউন্টারে গেলেই ১০০০ টাকার নিচে কোনো সিট নেই। রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ বা আইনি লোকও দেখছি না।’ এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস থেকে টাকা তুলতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাজাহান জানান, শিল্প কারখানাগুলো একসাথে ছুটি হওয়ায় সড়কে যাত্রীদের চাপ অত্যাধিক বেড়েছে। এতে গণপরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে এবং মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গাড়ির ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।