রাকসুর ইফতার মাহফিলের জন্য মাংস কিনতে যাওয়া শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

০২ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ PM
রমজান আলী

রমজান আলী © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাকসুর ইফতার মাহফিলের জন্য মাংস কিনতে গিয়ে নগরীর সাহেব বাজারে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস মিশিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বিক্রেতা ও তার সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করে সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজনের জন্য ৫০ কেজি মাংসের ঘাটতি দেখা দিলে রমজান আলী সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা সাইদুর রহমানের দোকানে যান। সেখানে মাংস মাপার সময় তিনি লক্ষ করেন, বিক্রেতারা কৌশলে ভালো মাংসের সঙ্গে পাশে রাখা অসুস্থ গরুর অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস মিশিয়ে দিচ্ছে। রমজান আলী এর প্রতিবাদ করলে দোকানের কর্মচারী জাফর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং জুতা (চম্পল) তুলে মারার ভয় দেখান।

একপর্যায়ে রমজান আলী তার পরিচিত পারভেজ ভাইকে ফোন দিতে গেলে বিবাদী জাফর তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন এবং তার পরনের টি-শার্ট টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলেন। মারপিটের কারণে তিনি আবার ফোন দিতে গেলে দোকানের মালিক ২ নম্বর বিবাদী সাইদুর রহমান তার ফোনটি কেড়ে নেন এবং অন্য বিবাদীদের মারার নির্দেশ দেন। এরপর জাফর ও আপেলসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে জখম করেন। পরবর্তী সময়ে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়ার সময়ও বিবাদীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ঘটনায় আহমেদ মুনসী (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), মো. নুরুল ইসলাম শহীদ (ক্রপ সায়েন্স বিভাগ) ও মো. মাহফুজ আলী (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ) নামের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিনজন শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী দিয়েছেন। রাকসুর ভিপির সঙ্গে আলোচনার পর রাজশাহী বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ দাখিল করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মো. রমজান আলী বলেন, “রাকসু ভিপি আমাকে ফোন দিয়ে বলে, ‘ভাই আমাদের তো একটা প্রোগ্রাম আছে—সবাই জানেন আপনারা যে রাকসুতে আজকে বৃহত্তর একটা প্রোগ্রাম আছে, ইফতার পার্টি।’ তো হুট করে তাদের একটা গোশত শর্ট পড়ে ৫০ কেজি। উনি আমাকে ফোন দেয়। তো উনার ফোনে আমি বাজারে আসি। তো উনি ফোন দিয়ে বলল যে, ‘ভাই আসলে আমাদের এরা খারাপ গোশত দেয়, তারপর দামও বেশি ধরে, আপনি একটু যান।’”

‘তো আমি বাজারে আসি। এসে বেশ কয়েকটা দোকান দেখি। তো ১০টা দোকান দেখার পরে ৮টা দোকানেই খারাপ মাংস দেখতে পাইছি ওটা। যেহেতু আমি এই পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলাম, এখন হয়তো এই পেশাটা আমার নাই; কিন্তু ওখানে যেয়ে দেখি একটা গোশত ভালো। তো পাশে একটা সবজি দোকানদার পরিচিত আমাদের এলাকার রফিক ভাই, শফিক ভাইয়ের। ওখানে যেয়ে উনার মাধ্যম দিয়ে কথা বলি, উনাকে। তো উনি দাম বলে দেয়, পরে আমরা ৭৩৫ টাকাতে দাম মিটাই।’

রমজান আলী বলেন, ‘ওখানে বসে গোশত নিচ্ছিলাম। প্রায় আধা ঘণ্টা গোশত সে কাটে। মোটামুটি আধাআধি কাটছে, ৩০-৪০ কেজি গোশত ওই সময় কেটে ফেলছে। তো আমি শুধু ফোন দিয়ে একটু শুধু ফোন চেক করছি, ফোন ধরছি একজনের। এর মধ্যেই সে অন্য জায়গা থেকে চর্বি সরায়ে নিয়ে তিন পোয়া মতন অসুস্থ গরুর চর্বি—যেটা সাইডে ছিল, কোনো একটা রেস্তোরাঁয় দিবে, ওটা দেখাই যাচ্ছে কিন্তু ছোট গরু—তো আমি ওটা নিব না। এর জন্য আমি বসে আছি। ওরা আমাকে বারবার রিকোয়েস্ট করছে, ‘ভাই সাইডে যান, চা খান, বসেন ভাই, রেস্ট নেন’, বড় চেয়ার দিচ্ছে।’

‘তো আমি তখন ওটা ফলো করি। তো আমি বলি যে, ভাই এটা নিব না। ওরা মিশায় দিয়ে বলে যে, আপনি পাগল—মানে বিশ্রী ভাষায় উল্টাপাল্টা বলে—আপনি পাগল হয়ে গেছেন মিয়া, কি করতেছেন এই সেই। আমি বললাম, আমি পাগল মানে? আপনি আমাকে চর্বি মিশায় দিচ্ছেন অসুস্থ গরুর। আপনার সাথে কথা হলো আপনি দিলেন, আমাকে দেখায় দেন আপনি কেন চুরি করে দিবেন? এটা শুধু আমার সাথে না, এটা প্রতিদিনের ঘটনা। শহরের বাজারের মানুষ গোশত কিনতেই ভয় পায় এদের কাছ থেকে।’

রমজান আলী আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে আমাকে মা-মাসি তুলে চড়-থাপ্পড় মারতে আসে। তো আমি তখন ফোন দিই আমাদের এলাকার এক দরগাপাড়ার পরিচিত ভাই আছে পারভেজ ভাইকে যে, ভাই এখানে আসেন তো একটু ঝামেলা হইছে, এরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। এই পর্যন্ত বলতে পারি নাই, তারা আমাকে চারদিক থেকে মার শুরু করে। মার শুরু করার পরে সব ফোন-টোন আমার কেড়ে নেয়। দিয়ে আমি আবার ওখানে দাঁড়ায়ে থাকি।’

‘আর নিম্নমানের গোশত বিক্রয় এটা দীর্ঘ দিন ধরে জানি। অনেকে বলে প্রতিকার পাইনি। যদি এরপর থেকে আমরা কালকে থেকে ভোক্তা অধিকার এবং বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এডিসি সহ এবং বর্তমান যারা এই এমপি মহোদয় আছে তারা যদি এই বাজার কেন্দ্রিক পূর্ণ ব্যবস্থা না গ্রহণ করে, তাহলে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট সহ আমাদের এলাকাবাসী মিলে আমরা একটা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব এবং ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দিব। এবং তারা আমাকে কেন এভাবে... আমি একজন ভোক্তা হিসেবেও কিন্তু আমার অধিকার। আমি যখন ছাত্র হিসেবে আজকে এখানে পরিচয় দিয়েছি কিন্তু সবচাইতে বড় পরিচয় হচ্ছে আমি একজন ভোক্তা। আমি ভোক্তা অধিকার আইনে আমি এটার শাস্তি দাবি করছি।’

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন সেই রুশ মডেল মনিকা কবির
  • ২২ মার্চ ২০২৬
সামাজিক উন্নয়নের অঙ্গিকার নিয়ে নতুন সংগঠন ‘TEAM’-এর যাত্রা
  • ২২ মার্চ ২০২৬
দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, ব্যবস্থা…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত
  • ২২ মার্চ ২০২৬
কাতারে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৬
  • ২২ মার্চ ২০২৬
হাদি তো একচুয়ালি একটা জামায়াতের প্রোডাক্ট, ওতো জঙ্গি: আসাম…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence