স্পেন-কেপ ভার্দে ম্যাচ © সংগৃহীত
লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও ফেরান তোরেস—তারকায় ভরা এই আক্রমণভাগের সামনে কেপ ভার্দের টিকে থাকার কথা ছিল কঠিন পরীক্ষা হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টোটা। গোলবারের সামনে দলের নেতৃত্বে যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোজিনহা। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী স্পেনকে কোনো গোল করতে দেয়নি কেপ ভার্দে।
ভোজিনহার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। পর্তুগিজ ভাষায় তার এই ডাকনামের অর্থ "ছোট কণ্ঠস্বর" হলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে তার হুঙ্কার ছিল আকাশচুম্বী। প্রথমার্ধে স্পেনের একাধিক হাই-ভোল্টেজ ক্লোজ-রেঞ্জ শট যেভাবে তিনি অতিমানবীয় দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়েছেন, তা স্প্যানিশ শিবিরকে শুরুতেই মানসিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
পুরো ম্যাচে স্পেনের নেওয়া ২৭টি শটের মধ্যে ৭টি ছিল সরাসরি লক্ষ্যে। তবে প্রতিবারই কখনো ডাইভ দিয়ে, কখনো পজিশনিংয়ের নিখুঁত ব্যবহার করে, আবার কখনো দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে সেগুলো রুখে দেন ভোজিনহা। চাপের মুহূর্তেও তার শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিই কেপ ভার্দের রক্ষণকে আরও শক্ত করে তোলে।
২৫ বছর পর্যন্ত পেশাদার ফুটবলই খেলতেন না এই গোলরক্ষক। জন্মের পর কখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে একসাথে থাকতে পারেননি। বাবা চাকরি করতেন সেনাবাহিনীতে এবং মা মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। তাই বেশিরভাগ সময়েই তিনি থাকতেন দাদা-দাদীর সাথে। তার জার্সিতে লেখা 'ভোজিনহা' নামটি তার ডাক নাম, যা রেখেছিলেন তার দাদা-দাদী।
সাফল্যের তালিকা খুব বড় নয় তার। ২০১৯ সালে সাইপ্রাস কাপ জয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়া ক্লাব ফুটবলে তিনি কখনোই বড় মঞ্চের আলোচনায় ছিলেন না। ইউরোপের নানা ক্লাবে খেললেও বৈশ্বিক ফুটবলে খুব বেশি পরিচিত মুখ নন তিনি। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে তার ভূমিকা একেবারেই ভিন্ন—ব্লু শার্কসদের গোলপোস্টের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে ভরসার নাম তিনি। কিন্তু অবাক করার বিষয়, তার বাজারমূল্য মাত্র ৫০ হাজার ইউরো—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা, যা আধুনিক ফুটবলের বড় তারকাদের তুলনায় খুবই নগণ্য।
১৯৮৬ সালে জন্ম নেওয়া এই গোলকিপার ২০১২ সাল থেকে জাতীয় দলের পোস্ট আগলে রাখছেন। দেশের জার্সি গায়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা থাকলেও ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পান তিনি। ক্লাব ফুটবলেও এক যাযাবর এই গোলকিপার বর্তমানে খেলছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের দল শ্যাভেসে। স্পেনের মতো বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে ভোজিনহা প্রমাণ করলেন যে, বয়সটা কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র। ম্যাচ শেষে চোখের অশ্রু বুঝিয়ে দিলো, দেশের প্রতি কতটা নিবেদন তার!