পায়ের ভুল অপারেশনে স্বপ্ন ভঙ্গের পথে তাকওয়ার

২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১০ PM , আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩০ PM
তাকওয়া ও মেট্রো হসপিটাল

তাকওয়া ও মেট্রো হসপিটাল © সংগৃহীত

একদিন ডাক্তার হবে, গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করবে—এসবই ছিল তাকওয়া আক্তারের স্বপ্ন। কিন্তু একটি ভুল অপারেশন সেই স্বপ্নগুলোকে আজ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বলছি নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী তাকওয়ার কথা। সে নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার গোপীনাথপুর গ্রামের প্রবাসী মহিব উল্যাহর মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে রিকশাযোগে কলেজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পায়ে আঘাত পান তাকওয়া। পরে জেলা শহর মাইজদীর বেসরকারি হাসপাতাল মেট্রো হসপিটালে ডা. প্রবীর কুমার ভৌমিকের হাতে অস্ত্রোপচার করানো হয়। চিকিৎসকদের আশ্বাস ছিল, অপারেশনের পর সে দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

অপারেশনের পর থেকেই পায়ে তীব্র ব্যথা, ফোলা ও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারার সমস্যা দেখা দেয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে নোয়াখালী ছেড়ে ঢাকার অন্য একটি হাসপাতালে ডা. দেখালে জানা যায়, আগের অস্ত্রোপচারে গুরুতর ভুল হয়েছে, ফলে পায়ের স্নায়ু ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে তাকওয়ার মা শিল্পী আক্তার নোয়াখালীর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৯ নভেম্বর তাকওয়াকে নোয়াখালীর মেট্রো হাসপাতালে পায়ের অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়। অপারেশনটি করেন চিকিৎসক প্রবীর কুমার ভৌমিক।

অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের সময় রক্ত চলাচল বন্ধ রাখতে রোগীর পায়ের ঊরুতে টুর্নিকেট ব্যবহার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী অপারেশনের পরপরই এটি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তা খোলা হয়। এ সময় রোগী প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরালেও চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।

শিল্পী আক্তার বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে টুর্নিকেট দেওয়া হয়, কিন্তু রাত আড়াইটার দিকে খুলে দেওয়া হয়। আমার মেয়ে তখন অসহ্য ব্যথায় ছটফট করছিল, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি।

তাকওয়ার পরিবার জানায়, সঠিক চিকিৎসার আশায় তারা শেষ করেছেন কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু কাজের কাজ হলোই না কিছু। উল্টো ভুল চিকিৎসায় অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঝুঁকছে তাকওয়া। 

কিন্তু এখন চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাকওয়ার মা বলেন, ‘আমার মেয়ে ডাক্তার হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে—এই স্বপ্নটাই তো দেখেছিলাম। আজ সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। পরীক্ষায় ও অংশগ্রহণ করতে পারছে না।’

বর্তমানে তাকওয়া শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুই থমকে গেছে। সে শুধু একটাই প্রশ্ন করছে—তার স্বপ্ন ভাঙার দায় কে নেবে?

এদিকে নাম প্রকাশ না শর্তে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, তারা কেবল অপারেশন থিয়েটার ভাড়া দিয়েছেন। অপারেশনের পারিশ্রমিক চিকিৎসক নিজেই নিয়েছেন। তবে মেয়েটির অসুস্থতার বিষয়টি তারা জানেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা অভিযোগটি গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কাদের পক্ষে থাকবে, জানালেন মার্কিন র…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
গোপালগঞ্জে শ্রমিক নেতা বাসু হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
রেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
বড় সুখবর পেলেন মোস্তাফিজ
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
স্বর্ণের ভরি কি ৩ লাখ ছাড়াবে— দাম বাড়ার নেপথ্যে কী
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বিএনপি জনগণের সরকার গঠন ক…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
diuimage