পাহাড়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৩ PM
মতবিনিময় সভায় অতিথিরা

মতবিনিময় সভায় অতিথিরা © টিডিসি

পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত ও টেকসই করতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। সভায় দুই জেলার প্রায় ২০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

রবিবার (১৮জানুয়ারি) সকালে জেলা শহরের পৌর টাউন হল অডিটোরিয়ামে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ যৌথভাবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

মতবিনিময় সভায় রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই দুই পার্বত্য জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক অগ্রগতি, শিক্ষার মান মূল্যায়ন, বিদ্যমান সংকট, সমস্যাবলি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়। সভায় দুই জেলার প্রায় ২০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ঝরে পড়া রোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।

বিশেষ করে ত্রিপুরা,চাকমা,মারমা ও পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদান নিশ্চিত করা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন প্রধান শিক্ষকরা। তারা বলেন, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায় এবং পাঠগ্রহণকে সহজ করে তোলে।

এ ছাড়া বক্তারা বিদ্যালয়গুলোতে আইসিটি ক্লাস চালু, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

শিক্ষকরা আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে অভিভাবকদের নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,‘পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, সরকার পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, পাহাড়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করাই পরিষদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষাকে সময়োপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে জোবায়দা বেগম
  • ০২ মার্চ ২০২৬
জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার দিচ্ছে বিএনপি
  • ০২ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় বিএনপির কার্যালয়ে আগুন, পেট্রোলের বোতল উদ্ধার
  • ০২ মার্চ ২০২৬
৭ কলেজ নিয়ে যা বললেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
  • ০২ মার্চ ২০২৬
সংসদকে অবিলম্বে সংস্কার পরিষদ ঘোষণা করতে হবে: নাহিদ
  • ০২ মার্চ ২০২৬
কলকাতায় চিকিৎসাধীন মারা যাওয়া সাবেক এমপির মরদেহ বেনাপোল সীম…
  • ০২ মার্চ ২০২৬