বিএনপির লোগো © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যখন সব রাজনৈতিক দল মাঠে গোছাতে ব্যস্ত। সে সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্দেশে পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনা দুই উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর হবে। এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুনের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা না রাখার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন আব্দুল আলিম তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলুম শানু।
অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তার হাওলাদার।
এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মিজান খন্দকার বলেন, ‘বর্তমানে আমরা দলীয় প্রভাব মুক্ত। চাইলে যে কাউকেই সমর্থন জানাতে পারি। পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিজয়ী করতে তার পক্ষে আমরা নির্বাচনে কাজ চালিয়ে যাব।’
হাসান মামুন তার ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘গলাচিপা উপজেলা, পৌর ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও দৃঢ় ঐক্য বজায় রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জনগনের বিজয় নিশ্চিত করা হবে। সব প্রকার ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত আছি।’
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩(গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। পরে গত ৩০ ডিসেম্বর হাসান মামুনকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তবে বহিষ্কারের আগেই তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর একান্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দাবি করেন হাসান মামুন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বোঝাতে ও নুরুল হক নুরের সঙ্গে কাজ করতে তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিনকে পাঠানো হলে তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে দুই উপজেলার কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।