ফুটবল টুর্নামেন্টে বোরকা–জুব্বা পরে নাচ © টিডিসি ফটো
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশমুন্সী এলাকায় আয়োজিত একটি রাত্রিকালীন মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বোরকা ও জুব্বা পরা কয়েকজন তরুণের নাচানাচির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সবুজের উদ্যোগে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে খেলার মাঠেই ওই নাচানাচির দৃশ্য দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা ও জুব্বা পরিহিত ৮–৯ জন তরুণ একে–অপরের হাত ধরে প্রকাশ্যে নাচানাচিতে মেতে উঠেছে। নাচের সময় দর্শকদের উদ্দেশে নানা অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করছে। এসময় মাঠের বাইরে থাকা দর্শকরা হাততালি দিয়ে তাদের উৎসাহ প্রদান করছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মুসলিম নারীদের বোরকা ও পুরুষদের জুব্বার মতো ধর্মীয় পোশাককে এভাবে উপহাস ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা চরম অনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।
তারা বলছেন, এসব পোশাক ইসলামের পরিচয় ও মর্যাদার প্রতীক, বিনোদনের নামে বা হাস্যরস তৈরির উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে এগুলো ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আজিজুল হক মানিক নামে একজন কমেন্টে লেখেন, ‘ফুটবল মাঠে কিছু ছেলে বোরকা পরে মেয়ে সেজে নাচানাচি করে ইসলামকে অবমাননা করেছে। এ ঘটনায় আয়োজক কমিটিকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ছেলেদের মিডিয়ার সামনে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একদল পাঞ্জাবি ও পাগড়ি পরে এবং আরেক দল বোরকা পরে যে কর্মকাণ্ড করেছে, তা নিছক আনন্দ বা বিনোদন নয়, বরং এটি সুস্পষ্টভাবে ইসলাম অবমাননার শামিল।’
শরিকুল ইসলাম নামে আরেকজন লেখেন, তরুণদের জন্য ফুটবল খেলার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে মাঠে ‘ধর্মীয় পোশাক পরা অবস্থায় নাচানাচি করেছে। এতে না শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত পৌঁছেছে, বরং ইসলামী পোশাকের মর্যাদাও অবমানিত হয়েছে।’
আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম। এসময় স্থানীয় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন।
এ বিষয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সবুজ বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা এটি আমাদের চিন্তার বাইরে ছিল। সেখানে একটি দলের কয়েকজন সমর্থক যাদের বয়স ৯-১৫ বছর খেলা দেখতে আসা হাজারো দর্শককে বিনোদন দিতে আরবদের পোশাক পরহিতি অবস্থায় মাঠে নাচানাচি করে, যা আমাদের ধর্মপ্রাণ ভাই বোনদের মনে আঘাত দিয়েছে। আমি এ খেলার আয়োজক হিসেবে সকলের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম বলেন, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আরাবিয়ান কালাচারে বোরকা–জুব্বা পরে নাচানাচি করছিল। বিষয়টি ইতিমধ্যেই শুনেছি। আমি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলাম, কিন্তু খেলার মাঝখানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে চলে এসেছি।