লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা
নৌকা দিয়ে নদী পার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন © টিডিসি
সেতু না থাকায় লক্ষ্মীপুরের টুমচর ইউনিয়নের রহমতখালী নদী হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্ক। ঘরবাড়ি, স্কুল ও বাজারের সঙ্গে কৃষিজমি ও জরুরি সেবার যোগাযোগ রক্ষায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রশি টানা নৌকায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২১ নম্বর টুমচর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই নদী পারাপার হন দুই পাড়ে বাঁধা মোটা রশি ধরে। নৌকাটি চালাতে থাকেন একজন মাঝি, তবে তীব্র স্রোতের সময় নৌকার গতি ধরে রাখতে যাত্রীদেরই রশি টেনে সাহায্য করতে হয়।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বাড়লে রশি পিচ্ছিল হয়ে যায়। হাত পিছলে কেটে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিয়মিত। অনেকের হাতের তালুতে রশির ঘর্ষণে কড়া পড়ে গেছে। স্থানীয়রা বলেন, এই কড়াই যেন তাদের জীবনের কষ্টের চিহ্ন।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পারাপার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ কালীরচর তালপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার জানায়, নদী পার হতে তার খুব ভয় লাগে। নৌকায় উঠলে সে বইখাতা শক্ত করে ধরে বসে থাকে—নৌকা উল্টে যাবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে রশি টানা নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, কৃষকদের সার ও বীজ নদীতে তলিয়ে গেছে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের প্রভাব পড়ছে পুরো জীবনযাত্রায়। রাতে কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া মানে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। কৃষকেরা সময়মতো ফসল বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতুর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। সেতুর কথা উঠলেই আশ্বাস আসে, কিন্তু কাজ আর শুরু হয় না।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন বলেন, এলাকাটি জরিপ করা হয়েছে। আবাসন সেন্টার, তালপট্টি ও জলাইজ্জার খেয়া স্থানে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।
তবে সেই অনুমোদনের অপেক্ষায় থেমে নেই টুমচরের মানুষের জীবন। প্রতিদিন তারা রশি ধরে নদী পার হন—ভরসা বলতে শুধু অভ্যাস আর ভাগ্য। এক নদী, দুই পাড়—আর মাঝখানে অনিশ্চয়তায় ঝুলে থাকা মানুষের জীবন।