সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুজাইফা সুলতানা আফরান গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মানববন্ধন © টিডিসি
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে আঘাত হানছে নিরীহ মানুষের ওপর। টেকনাফে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুজাইফা সুলতানা আফরান গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। এর প্রতিবাদে মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা হামলা বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বিচার গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধনে মো. আলম বলেন, ‘একজন নিরীহ শিশু শিক্ষার্থীর ওপর সীমান্তের ওপার থেকে গুলি এসে লাগা চরম মানবতাবিরোধী কাজ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
আরেক বক্তা আলী হোসেন বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও নারী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, যাতে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থী হুজাইফা সুলতানা আফরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নিরীহ মানুষ হামলার শিকার না হয়।’
উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন বাংলাদেশে এসে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে না পারে, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
ঘটনার বিষয়ে আহত শিক্ষার্থীর পিতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গত রবিবার আমার মেয়ে খেলতে বের হওয়ার সময় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলি এসে তার মাথায় লাগে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি। তার সুচিকিৎসা এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
গতকাল মিয়ানমার রাখাইন থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে শিক্ষার্থী হুজাইফা সুলতানা আফরান গুরুতর আহত হয়।