নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ঘটনা শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় ঘটে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলের নেতাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ফেসবুকে ছড়ানো ভুল ভিডিওকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এনসিপি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা একটি পিচঢালা রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিলেন। এ বিষয় নিয়ে প্রতিবাদে যাওয়ার পথে এনসিপি কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপি সমর্থকরা।
সংঘর্ষে লিপ্তরা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মো. মাহবুবের রহমান শামীম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের সমর্থক বলে জানা গেছে। এ দুই নেতা নিজ নিজ দলের মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এনসিপির যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা দাবি করে বলেন, চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালা রাস্তা কেটে স্থানীয় বিএনপির নেতা সারোয়ার মাঝি, চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি রবি আলম শান্তসহ অন্যরা ইট, বালু, পাথর ও পিচ বিক্রি করছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ ও এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিএনপির সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালায়।
ইউসুফ রেজা আরও বলেন, হামলায় চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ও আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির নেতা রবিন, এনসিপির জাফের, দুলাল, শাহাদাতসহ সাধারণ মানুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিএনপির লোকজন এনসিপির প্রায় আটটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।
তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, চানন্দী ইউনিয়নে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা সড়কের পুরোনো ইট-বালু সরিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করলে এনসিপির কিছু কর্মী সেই দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করেন যে, বিএনপি নেতারা সড়কের মালামাল বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, এনসিপি কর্মীদের অভিযোগ মিথ্যা। তারা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রিপনসহ ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে নিয়ে এলাকাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ঘটনার সময় রিপনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
সুজনের দাবি, দরবেশ বাজার এলাকায় বালু পরিবহনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির বিরুদ্ধে মাটি বিক্রির অপপ্রচার চালায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে এনসিপির সমর্থকরা মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। এতে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এতে সারোয়ার (৫২) ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারুসহ (৫৫) বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজারের একটা পিচ ঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালি, পাথর, পিচ সব বিক্রি করে দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপির সারোয়ার মাঝি, ছাত্রদলের নেতা সারোয়ার ও রবিসহ অন্যান্য নেতারা। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণসহ এনসিপি নেতারা প্রতিবাদ করে যখন ফিরছিল, তখন পথে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে এনসিপি ও সাধারণ মানুষসহ সর্বমোট ১০জন রক্তাক্ত হয়। তারা এ দ্বীপের মাটি বিক্রি করে খায়। আর আমরা মাটি রক্ষায় রক্ত ঝরাই। তাদেরকে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষ জবাব দেবেন। ইনশাআল্লাহ!’
এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিএনপির সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। সেখান থেকেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।