হরিণ শিকারের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা বাঘ © ফাইল ছবি
সুন্দরবনে শিকারির পাতা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটি অবশেষে মুখে খাবার তুলেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মুরগির মাংস ও গরুর কলিজা দিলে তা খেয়েছে বাঘটি। পাশাপাশি স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে প্রাণীটি। বর্তমানে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুলকার নাইমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিকারির ফাঁদের কারণে বাঘটির সামনের বাম পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁদটি ধারালো ও মজবুত হওয়ায় পায়ের নিচের অংশে দীর্ঘক্ষণ রক্ত চলাচল বন্ধ ছিল। এতে সেখানে ঘায়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারের পর ক্ষতস্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে দেওয়া হয়েছে।
বন কর্মকর্তারা জানান, বাঘটি এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। এ কারণে আপাতত বাঘের খাঁচা ঢেকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, বাঘটির অবস্থা এখন কিছুটা ভালো বলা যায়। উদ্ধারের পর প্রথমে সে খাবার মুখে নিচ্ছিল না। মুরগি ও গরুর কলিজা দেওয়া হলেও খায়নি। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় কিছুটা খাবার খেয়েছে এবং স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে বন্দি থাকার কারণে বাঘটি এক ধরনের ট্রমার মধ্যে রয়েছে। রবিবার সারারাত খাঁচা থেকে বের হয়নি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইবার খাঁচা থেকে বের হয়েছে। মানুষ দেখে আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে কারণে খাঁচার চারপাশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে আস্ত মুরগি দেওয়া হলেও না খাওয়ায় পরে কেটে টুকরো করে দেওয়া হয়। সেটিও দুপুর পর্যন্ত মুখে দেয়নি। দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ায় বাঘটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। খাবার না খাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় খাবার খাওয়ায় চিকিৎসকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এর আগে রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারের জন্য পাতা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রজাতির বাঘটির ওজন আনুমানিক ১০০ কেজি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রায় ৪–৫ দিন ধরে বাঘটি ফাঁদে আটকা ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় বাঘটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। বর্তমানে সেখানেই রাখা হয়েছে।