ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক
সড়কের গর্তে আটকে গেছে ট্রাক © টিডিসি
রাজধানীর প্রবেশপথ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশ এখন চলাচলের জন্য আতঙ্ক আর দুর্ভোগের নাম। ভাঙাচোরা সড়ক, খোঁড়াখুঁড়ি আর অসমাপ্ত প্রকল্পের কারণে প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মাত্র ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের।
টঙ্গী অংশে মহাসড়কজুড়ে রয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি, অসমতল রাস্তা, ভাঙা ডাইভারশন, ওভারব্রিজ না থাকায় যত্রতত্র পথচারী পারাপার এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব। এসব কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, মোটরসাইকেল আরোহীরা হোঁচট খাচ্ছেন, আবার পথচারীরা দ্রুত পার হতে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন। অচলাবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্সও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই প্রকল্প আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপে পরিণত হয়েছে। রাজধানীতে ঢোকার প্রধান সড়ক যদি এমন দুরবস্থায় থাকে, তবে দেশের উন্নয়নযাত্রা কীভাবে এগোবে—সে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
টঙ্গীর এই দুরবস্থার কারণে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক চাপ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশকে অনেকেই দেশের অব্যবস্থাপনার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিআরটি প্রকল্প দ্রুত ও সঠিকভাবে শেষ না হলে এই সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হবে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যেন এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির অবসান ঘটে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্র জানায়, প্রকল্পটি শেষ করতে বিলম্বের কারণ বরাদ্দ সংকট, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং বর্ষাকালীন কাজে বিঘ্ন। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে অস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ যেহেতু শেষ পর্যায়ে, তাই এটি বাতিল না করে দ্রুত শেষ করা জরুরি। এখনো প্রায় ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। দ্রুত শেষ করা হলে সুফল মিলবে, নইলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন দেরিতে স্কুলে আসছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।’
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কটি যেহেতু বিআরটি প্রকল্পের আওতাধীন, আমরা ইচ্ছে থাকলেও সরাসরি কাজ করতে পারছি না। তারপরও পানিনিষ্কাশন ও কিছু অংশ মেরামতের ব্যবস্থা করেছি।’