মা-বাবার সঙ্গে সাইফুল © টিডিসি
অভাব-অনটনের সংসারে প্রতিবেশীর সঙ্গে কাজে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া কুড়িগ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশু সাইফুল দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিললেন বাবা-মায়ের বুকে। তাকে কাছে পেয়ে দারুণ আনন্দিত পরিবারের লোকজন। এদিকে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখার জন্য শত শত মানুষের ভিড় করেন তাদের বাড়িতে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে সাইফুলকে চট্টগ্রাম থেকে নিজ বাড়ি কুড়িগ্রামে নিয়ে আসেন তার ভাই। সাইফুল ইসলাম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা গ্রামের আব্দুল লতিফ-আমেনা দম্পতির সন্তান। ৯ ভাই বোনের মধ্যে সাইফুল ৪ চতুর্থ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক নারীর সঙ্গে ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে অন্যের বাসায় কাজের উদ্দেশ্যে পাঠায় তার পরিবার। ট্রেনে যাওয়ার পথে স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে সাইফুল ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। সময় মতো ট্রেনে উঠতে না পারলে ট্রেনটি ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ হয় সাইফুল। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটিয়ারী রেলস্টেশন একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় ও কাজ জোটে সাইফুলের। সেখানেই কেটে যায় ২৮টি বছর। পরে গত সপ্তাহে নেফরা গ্রামের এক বাসিন্দার সঙ্গে হঠাৎ কথায় সাইফুল জেলা-উপজেলার নাম বলতে না পারলেও বাবা-মা এবং গ্রামের নাম বলতে পারে। এভাবেই পরিবারের খোঁজ মেলে সাইফুলের। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সাইফুলের বড় ভাই মাহফুজ রহমান গত বৃহস্পতিবার গিয়ে ভাটিয়ারী রেলস্টেশনে চায়ের দোকান থেকে সাইফুলকে বাড়ি নিয়ে আসেন।
সাইফুলের বড় ভাই মাহফুজার রহমান বলেন,‘ গত সপ্তাহে সাইফুলের তথ্য পাই। এরপর সেই ঠিকানায় গিয়ে ভাইকে চিনতে পাই। এ সময় ভাটিয়ারী রেলস্টেশনে চায়ের দোকানের মালিক মোস্তাকিন এর সাথে যোগাযোগ করে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভাইকে বাড়ি নিয়ে আসি। এতদিন পর ভাইকে ফেরত পাওয়ার অনুভূতির ভাষা প্রকাশ করার মতো নয়।’
আরও পড়ুন: স্বপদে বহাল থাকেন হাজতবাসে থাকা ঢাবি শিক্ষকরা, বেতন-ভাতাও পান নিয়মিত
সাইফুলের বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ছেলেকে দেখে আমি চিনতে পেরেছি। ছেলের জন্য নামাজ পড়েছি৷ আল্লাহর কাছে অনেক কেঁদেছি। এখন ছেলেকে পেয়ে খুশি হয়েছি।’
মা আমেনা বেগম বলেন, ‘সংসারে অভাব ছিল। ঠিকমতো খাবার জুটত না। তখন ছেলেকে কাজের জন্য পাঠাই। কাজে গিয়ে ছেলে আমার হারিয়ে যায়। ছেলের জন্য অনেক কেঁদেছি। আজ সেই সন্তানকে ফিরে পেলাম।’
উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি (সদস্য) আবুল কাশেম বলেন, সাইফুলকে হারিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই সাইফুলের খোঁজ করলেও পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন পর সেই সন্তানকে ফিরে ফেলো বাবা-মা। পরিবারটি খুবই অসহায়। সরকারি-বেসরকারিভাবে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, ২৮ বছর পরে সন্তানকে ফিরে পাওয়া সত্যি আনন্দের খবর। সাইফুলের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।