জামায়াতসহ শরিক দলগুলোর লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারণী ফোরাম। পরে ইসলামী আন্দোলনের সাথে ১০ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠকেরও কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। তবে জোটে ইসলামী আন্দোলনের থাকা না থাকা এবং ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনের বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে না জামায়াতসহ ১০ দল।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকের বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের আলোচনা চলছে।’
এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী ঐক্য অটুট রাখতে আজই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ১০ দলের নেতাদের একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
সূত্রটি আরও জানায়, যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা সফল না হয়, তবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনে পরবর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী দেবে ১০ দলীয় জোট।
এ বিষয়ে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, আসন বণ্টন কিংবা নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’
আরও পড়ুন: জরুরি বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয় জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১০ দল। জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
পরে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ২৬৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বাকি ৩২ আসনে অন্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, প্রচলিত আইনে ৫৪ বছর রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, এই আইন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সব সময় বলে এসেছি প্রচলিত আইনের পরিবর্তে আল্লাহর আইন, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করি। এখন যদি দেখি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আল্লাহর আইন নয়, প্রচলিত আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করবেন, তখন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। জোটবদ্ধ ইসলামী সংগঠনগুলোর প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তবে তারাও যেন জামায়াতের এসব নীতির ব্যাপারে ক্লিয়ার হয়ে নেন।
এদিকে, শুক্রবার বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ের সময়ই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন দিকে চলে গেছে’– গাজী আতাউরের এমন মন্তব্য সঠিক নয় দাবি করে জুবায়ের বলেন, ‘জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জামায়াত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) আদর্শের আলোকে পরিচালিত একটি ইসলামী সংগঠন।’
জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়– এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য গাজী আতাউর রহমানের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।