জামায়াতে ইসলামী © টিডিসি সম্পাদিত
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামীর নীতি নির্ধারণী ফোরাম। তবে ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনের কী হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাবে না জামায়াতসহ ১০ দল।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় মগবাজার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয় বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমাদের নীতি নির্ধারণী ফোরামের বৈঠক চলছে
এদিকে, একটি সূত্র বলছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও আজ বৈঠকে বসতে পারে ১০ দলের নেতারা৷ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে দলটিকে ১১ দলীয় জোটে রাখার। শেষ পর্যন্ত সফল না হলে ফাঁকা রাখা ৪৭ আসনে পরবর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী দেবে ১০ দল।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয় জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১০ দল। জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
পরে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান ২৬৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বাকি ৩২ আসনে অন্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, প্রচলিত আইনে ৫৪ বছর রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে, এই আইন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সব সময় বলে এসেছি প্রচলিত আইনের পরিবর্তে আল্লাহর আইন, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করি। এখন যদি দেখি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আল্লাহর আইন নয়, প্রচলিত আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করবেন, তখন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। জোটবদ্ধ ইসলামী সংগঠনগুলোর প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তবে তারাও যেন জামায়াতের এসব নীতির ব্যাপারে ক্লিয়ার হয়ে নেন।
এদিকে, শুক্রবার বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান সম্প্রতি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে ব্রিফিংয়ের সময়ই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
‘আল্লাহর আইন ও ইসলামী আদর্শ থেকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন দিকে চলে গেছে’– গাজী আতাউরের এমন মন্তব্য সঠিক নয় দাবি করে জুবায়ের বলেন, ‘জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জামায়াত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) আদর্শের আলোকে পরিচালিত একটি ইসলামী সংগঠন।’
জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়– এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য গাজী আতাউর রহমানের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।