শিকলে বাঁধা দুই ভাই-বোন

‘দুজনই আমাকে মারধর করে, শরীরে কত আঘাত সইতে হয়—তা কাউকে বলা যায় না’

২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৪৯ PM , আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:২২ PM
১০ বছর ধরে শিকলবন্দী জালাল মোল্লা ও হাজেরা খাতুন

১০ বছর ধরে শিকলবন্দী জালাল মোল্লা ও হাজেরা খাতুন © সংগৃহীত

দশ বছর ধরে শিকলে বাঁধা রয়েছেন সহোদর দুই ভাই-বোন। অর্থের অভাবে হচ্ছে না তাদের চিকিৎসা। শিকলবন্দি হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন তারা। দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে বৃদ্ধ মা-বাবা। 

জানা গেছে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মেঘনা মোল্লা পাড়া গ্রামের ফজাই মোল্লার ছেলে জালাল মোল্লা (৩৫) ও ছোট মেয়ে হাজেরা খাতুন (২৭) দুইজনই মানসিক রোগী। জালাল এক সময় কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু ১০ বছর আগে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি।

অন্যদিকে, বিয়ের পর এক সন্তানের মা হন হাজেরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই একমাত্র সন্তান নানাবাড়িতে এসে পানিতে ডুবে মারা যায়। সন্তানের শোক সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারান মা হাজেরাও। এরপর ভেঙে যায় তার সংসার।

দুই ভাইবোনের আশ্রয় হয় বৃদ্ধ মা-বাবার কাছে। সন্তানদের সুস্থ করার আশায় তারা নিয়ে যান পাবনা মানসিক হাসপাতালে। কিন্তু টাকার অভাবে মাঝপথেই থেমে যায় তাদের চিকিৎসা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মানসিক সমস্যা, অস্বাভাবিক আচরণে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবার।

অবশেষে নিরুপায় বাবা-মা এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। নিজ সন্তানদের পায়ে লোহার বেড়ি ও শিকল পরিয়ে রাখতে শুরু করেন তারা। সেই শিকলই এখন তাদের সারাদিনের সঙ্গী।

জালাল মোল্লা ও হাজেরা খাতুনের বাবা মো.ফজাই মোল্লা বলেন, প্রায় ১০ বছর আগেও আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। মাঠে কঠোর পরিশ্রম করত।সংসারের কাজে সাহায্য করত। হঠাৎ করেই তার মানসিক সমস্যা শুরু হয়। আমরা তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করি কিছুদিন চিকিৎসা করিয়েছিলাম। কিন্তু টাকার অভাবে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয় তাকে। বাড়িতে থাকলেও মাঝেমধ্যে সে নিখোঁজ হয়ে যেত এবং সবাইকে মারধর করত। তাই বাধ্য হয়ে তার পায়ে লোহার বেড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এরপর আমার মেয়ের বিয়ে হয়। একটি সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে সন্তান আমাদের বাড়িতে এসে পানিতে ডুবে মারা যায়। সেই আঘাত সইতে না পেরে মেয়েটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তারও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার ছেলে-মেয়ে দুজনই মাঝে মাঝে আমাকে খুব মারধর করে। শরীর জুড়ে কত আঘাত সইতে হয়, তা কাউকে বলা যায় না। তবুও তারা তো আমার সন্তান! সন্তানকে ফেলে আমি কোথায় যাব বলুন? আমি রান্না করে ঘরে খাবার রেখে দেই। যখন ইচ্ছা হয়, তখন তারা খেয়ে নেয়। তার না খেয়ে থাকবে এটুকু আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। যত কষ্টই দিক না কেন, মায়ের বুক তো সন্তানের জন্যই ধ্বনিত হয়।

এলাকাবাসী জানান, জালাল মোল্লা ও হাজেরা খাতুন একসময় স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করত, কাজ করত।এখনো সঠিক চিকিৎসা ও যত্ন পেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। যদি সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে এ ভাইবোনকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আবু দারদা বলেন, দুজন প্রতিবন্ধী ভাইবোন ইতোমধ্যেই উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে এর বাইরেও যদি আরও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়া গেলে আমরা অবশ্যই যথাসাধ্য সহায়তা করার চেষ্টা করব।

ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রীনিবাসে গিয়ে ‘মব’ তৈরির অভিযোগ চবি শ…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে লোডশেডিং, জিএমকে স্ট্যান্ড র…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বনঘেঁষে মুরগির খামার, খোলা গাড়িতে বিষ্ঠা পরিবহন—চর্মরোগে আক…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় দলে নেইমারের খেলা নিয়ে যা বললেন আনচেলত্তি
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিআইইউতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-হুমকির দায় স্বীকার, অভিযুক্ত…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বস্তি মিলল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদ…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9