দুলু মিয়া © টিডিসি
তিন বেলা খাবার জোগাড়ই যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে হঠাৎ পা হারিয়ে সংসারের হাল ধরা দুলু মিয়ার যেন জীবনের সব আলো নিভে গেছে। পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি। পাঁচটি অবুঝ মুখ—চার কন্যা আর একমাত্র সাত বছরের ছেলে তাকিয়ে ছিল বাবার হাতে ফেরত নিয়ে আসা দু-মুঠো আহারের দিকে। আজ সেই বাবাই শুয়ে আছেন ঘরের এক কোণে, আর তার সংসারটা পড়ে আছে কান্না আর অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের পুটল গ্রামের দুলু মিয়া (৩৫) পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। দিন আনে দিন খায় এই পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে দুই মাস আগে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়ে পাড়ি জমান তিনি।
সবকিছুই চলছিল কঠোর পরিশ্রমে। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে যায় সব কিছু। ১৫ জুন, রবিবারের সকালটিও ছিল অন্য দশটা দিনের মতো। কিন্তু কাজ করার সময় হঠাৎ একটি ইট ওপর থেকে পড়ে তার উরুতে আঘাত করে। ব্যথায় ছটফট করতে করতে তাঁকে ভর্তি করা হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, হাড় এমনভাবে ভেঙেছে যে পা আর রাখা সম্ভব নয়। চার দিনের মাথায় অস্ত্রোপচার করে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়।
অপারেশন ও চিকিৎসায় খরচ হয় প্রায় এক লক্ষ টাকা—যা কোনোভাবে ধারদেনা ও আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় জোগাড় করা গেছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, নতুন করে শুরু হয়েছে আরও বড় এক যুদ্ধ—হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর জীবন চালানোর যুদ্ধ।
আজ তিনি কর্মক্ষম নন। একটি পা নেই। স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে সাত সদস্যের পরিবার এখন একেবারে পথে বসার উপক্রম। ঘরে খাবার নেই, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো তো দূরের কথা, চুলায় আগুন জ্বালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুলু মিয়ার পরিবারের একটাই অনুরোধ— ‘আমাদের যদি কেউ একটা ছোট দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে হয়তো নতুন করে বাঁচার একটা রাস্তা খুলে যেত। ছেলেমেয়েগুলারে নিয়ে আর চাই না কারও কাছে হাত পাততে।’
আপনার একটু সহানুভূতি—হয়ে উঠতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। চাইলে সরাসরি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করতে পারেন। ফোন: ০১৯৭১০১৩০৪৯।