৯ নং দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ © টিডিসি ফটো
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নাজমুল আহসান নান্টু মল্লিককে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা। এতে দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আটদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
তবে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো চাঁদা চাইনি। ইউনিয়নের জনগণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিনা ভোটের চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, সারা বাংলায় একজনও নেই, উনি থাকবে কিসের জন্য?।’
চেয়ারম্যানের কাছে চাঁদা দাবির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোয়াইট ইম্পসিবল। আমার এলাকায় এসে জিজ্ঞেস করেন, প্রশাসনের কাছে জিজ্ঞেস করেন। ৫ আগস্টের পরে কোনো ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে একটি টাকার বিষয়েও অভিযোগ আনতে পারবে না।’
এদিকে দপদপিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, ‘২০ জুন আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছে, চাঁদা না দিলে রাস্তাঘাটে আমাকে পেলে মেরে ফেলবে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে। তারা দলবল নিয়ে ২২ জুন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন এবং ২৩ জুন ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই কাজে স্থানীয়রা আপত্তি জানালে তাদেরকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল আহসান নান্টু মল্লিক চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি না মানায় ২২ জুন দলবল নিয়ে এলাকায় অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দেন এবং পরদিন ২৩ জুন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। চাঁদা না দিলে ‘মব সৃষ্টি করে’ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধার প্রাণনাশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই আত্মগোপনে থাকছেন চেয়ারম্যান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে হত্যার ঘোষণায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ চেয়ারম্যানের।
এ ছাড়াও দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৩ জুন সকালে সড়ক অবরোধ করে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট এলাকায় কর্মসূচি পালন করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর পরই তারা ইউনিয়ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা দলমত নির্বিশেষে কাজ করেছে। তার কাছে কিছু চেয়ে পায়নি এমন কেউ নেই। কিন্তু এখন কিছু লোক তার বিরুদ্ধে কেন এমন করছে তা জানি না। ইউনিয়ন পরিষদ বন্ধ থাকায়, সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার হারুন খন্দকার বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ তালাবদ্ধ থাকায় জনসাধারণের সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। কি কারণে তালা দেওয়া হয়েছে তা জানি না। তবে এ নিয়ে কথা বলাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ।’
সংরক্ষিত (১,২,৩) ওয়ার্ড মেম্বার আয়শা আক্তার রিনা বলেন, ‘আমি জেনেছি বিএনপির নেতাকর্মীরাই পরিষদে তালা ঝুলিয়েছে, এতে জনগণের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট তাড়াতে কিছু ত্যাগ করতে হয়। দপদপিয়া ইউনিয়নের বিষয়টি প্রশাসনিক ব্যাপার, এটি প্রশাসন দ্রুত সমাধান করবে বলে আশা করি।’
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে মৌখিকভাবে খবর পেয়েছি, কিছু লোক ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে রেখেছে। সেবা প্রত্যাশী বা অন্য কারো লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় চেয়ারম্যানের অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে, এটা নিশ্চিত করা হয়েছে।’