বন্ধ করাত মিল © টিডিসি ফটো
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগা ও পুটখালী ইউনিয়নের ৬টি করাত কল (স-মিল) হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ায় মানবিক সংকটে পড়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, কাঠ ব্যবসায়ী এবং ফার্নিচার কারিগররা। সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ হওয়া এই স-মিলগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২১ মে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গোগা বাজারের ৪টি এবং পুটখালীর বারোপোতা বাজারের ২টি করাত কল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওই অঞ্চলের কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। হঠাৎ মিল বন্ধ হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে বহু দোকান, মাঝপথে থেমে গেছে কাঠের কাজ, বেকার হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার।
গোগা বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী কবির হোসেন, মুরসালিন ও আলমাস হোসেন জানান, মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কাঠ কাটার জন্য এখন বহু দূরের বাজারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময় ও খরচে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের ব্যবসা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ইমন স-মিলের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা তিন পুরুষ ধরে এই ব্যবসা করে আসছি। কোনো নোটিশ ছাড়াই মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোগা-পুটখালীর অন্তত ২৫-৩০টি ফার্নিচার দোকান আজ চরম অনিশ্চয়তায়। দরজা-জানালার কাঠ মিলে পড়ে আছে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে গেছে।’
বিষয়টি নিয়ে বারবার যোগাযোগ করেও শার্শা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ফরেস্ট অফিসার মো. ইফনুছ আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শওকত মেহেদী সেতু জানান, মূলত বিষয়টি বিজিবির। করাত কল আইন ২০০২-এর সংশোধনী ২০১২ অনুযায়ী সীমান্তের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাত কল থাকতে পারবে না। সেই আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ২১ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খুরশিদ আনোয়ারও একই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘এটা কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। সরকারি বিধির আলোকে সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা করাত কলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই করাত কলগুলো তাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। আইনের প্রয়োগ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা বা পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ায় তারা আজ দিশেহারা। ভুক্তভোগীরা দ্রুত মিলগুলো পুনরায় চালুর অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি।