ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না বালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে!

৩১ মে ২০২৫, ১২:৩০ PM , আপডেট: ০১ জুন ২০২৫, ০১:৩৭ PM
ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির মিয়া

ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির মিয়া © টিডিসি ফটো

বৃদ্ধ লাল মিয়া হাওলাদার নামের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভূমি অফিসে আসেন জমির নামজারি করতে। তার কাছ থেকে দাবি করা হয় ৫ হাজার টাকা। তিনি কোনোমতে চার হাজার টাকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন।

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা বালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির মিয়ার বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই অফিসে পদে পদে ঘুষ ও দুর্নীতি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূমিসেবা প্রার্থীরা।

সরেজমিনে গেলে দিন বালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির মালিক ও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ লাল মিয়া হাওলাদার বলেন, আমি গরিব মানুষ। জমির নামজারি করার জন্য আসলে ভূমি অফিসে টাকা দাবি করেন তারা। অনেক কষ্টে চার হাজার টাকা জোগাড় করে এনেছিলাম। তাতেও তহশিলদার রাজি হননি। পরে আমি তাকে চার হাজার টাকা তাকে দিয়েছি।

লাল মিয়ার মতো অন্য ভুক্তভোগীরাও বলেন, নাম প্রস্তাব (নামজারি), মিস মামলা, খাজনা দাখিল থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এখানে ঘুষ লেনদেন হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকটা প্রকাশ্যেই ঘুষের অঙ্ক নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া প্রায় কোনো কাজই হচ্ছে না সেখানে। অফিস নিয়মে প্রত্যেক ধাপে ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না। ঘুষ লেনদেনে সহযোগিতা করেন রফিকুল ইসলাম নামে এক দালাল। তিনি আগে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভেতরেই বসতেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হলে সম্প্রতি তিনি পাশেই একটি কম্পিউটারের দোকনে বসেন।

তারা আরও বলেন, ২০২১ সালের ১০ আক্টোবরে কবির মিয়া বালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। অনলাইনে আবেদনের পর আবার মূল কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে হয়। তখন টাকা না দিলে অনলাইনে ঝুলে থাকে ফাইল। একটি নামজারিতে চুক্তি করলে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা লাগে। এটা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এ ছাড়া কোনো তথ্য জানতে গেলে বা কাগজ দেখতে গেলে ২শ থেকে ৫ শত টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তদন্তের কাজ এলে বাদী-বিবাদী দুজনের কাছ থেকেই টাকা নেন তহশিলদার। যিনি বেশি টাকা দেন, তদন্ত প্রতিবেদন তার পক্ষে যায়। তদন্তের ক্ষেত্রে চুক্তি করলে তা ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার ওপরেও চলে যায়।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, ভূমি অফিসের সামনে দুটি কম্পিউটারের দোকান। দুটি দোকান থেকে অনলাইনে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন করেন সেবা গ্রহণকারীরা। দুই দোকানের মালিকসহ অফিসের কর্মচারীরা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাজ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এক দোকানের কর্মচারী রফিক উপসহকারী কর্মকর্তা কবির মিয়ার গ্রামের লোক। অভিযোগ রয়েছে, রফিককে সেখান থেকে দালালি করার জন্যই তহশিলদার নিজে নিয়ে আসেন এই ভূমি অফিসের সামনের দোকানে।

ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক দেলোয়ার হোসেন জানান, রফিক আগে ভূমি অফিসের ভেতরেই বসত। কয়েক মাস আগে এখন থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এখন সে পাশের একটি কম্পিউটারের দোকানে অনলাইনে কাজ করে।

জানতে চাইলে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বালীগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির মিয়া বলেন, আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত তহশিলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপি সরকারের প্রথম নারী ভিসি হলেন ঢাবি অধ্যাপক তাহমিনা
  • ০৮ জুন ২০২৬
বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর করুন থাইল্যান্ডে, মাসিক ভাতা-আবাসনস…
  • ০৮ জুন ২০২৬
এবার বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন আরবির অধ্য…
  • ০৮ জুন ২০২৬
কাল চবিতে উদ্বোধন হচ্ছে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্…
  • ০৮ জুন ২০২৬
ওলটপালট আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পরিকল্পনা, স্কালোনির দুশ্চিন্…
  • ০৮ জুন ২০২৬
অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা সেই উপ-উপাচার্য হলেন পবিপ্রবি ভিসি
  • ০৮ জুন ২০২৬