অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন ঠিকাদারসহ অন্যরা। সোমবার দুপুরে পাবনার চাটমোহর উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে © টিডিসি
পাবনার চাটমোহর পৌরসভার দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় নাগরিক ও ঠিকাদাররা। এ কর্মসূচি থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের প্রধান গেটে চাটমোহর নাগরিক কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন নির্বাচিত ঠিকাদার ইহাম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাসুম, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোন্তাজ আহমেদ প্রমুখ। এ সময় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম লিখন বিশ্বাস, ঠিকাদার শাহজাহান আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, চাটমোহর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী রাফিউল বারী এবং উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ পৌরসভায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন। তদন্ত করলেই প্রমাণ মিলবে।
বক্তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ৩৭ লক্ষাধিক টাকার একটি কাজের টেন্ডার আহবান করা হলে অনেকেই দরপত্র দাখিল করেন। দরপত্রের লটারিতে ইহাম কনস্ট্রাকশন বিজয়ী হয়। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার দিতে সহকারি প্রকৌশলী মোটা টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ওয়ার্ক অর্ডার না দিয়ে আগের লটারি বাতিল করে আবার লটারি করেন। সেখানে মোটা টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কাজ পাইয়ে দেন এই কর্মকর্তা। মানববন্ধনে বক্তারা ইহাম কনস্ট্রাকশনকে ওয়ার্ড অর্ডার দেওয়াসহ অসাধু দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে।
এ বিষয়ে চাটমোহর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী রাফিউল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, আগে কোনো লটারি হয়নি, কাউকে কোনো উইনার লেটারও দেওয়া হয়নি। একবারই লটারি হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইহাম কনস্ট্রাকশনের কাগজপত্র সঠিক ছিল না। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।