জিএসটি গুচ্ছ থেকে বের হতে চায় এক বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় তিনটি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ PM , আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ PM
তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত দেশের ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শিগগির শুরু হবে। এবার এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে নতুন তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অপরদিকে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এই প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে একক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।   

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো-বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি এখনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় গুচ্ছে যুক্ত হলে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রায় দুই দশক আগে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা এই সপ্তাহেই আবেদন করবো। এর আগে ইউজিসির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেব। এজন্য ঢাকা যাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তিনি বলেন,দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমাদের দেশের ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম খুবই ভালো। তাই গুচ্ছের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে আনুষ্ঠানিকতা ও গতানুগতিক যে সুবিধা রয়েছে সেগুলো পেলেই চলবে।

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ৫৮তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই গুচ্ছ ভর্তিতে যুক্ত হতে চাই।’

অন্যদিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনও জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০২৩ সালে। এটি ৫৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ছিল ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়’। পরে ২০২৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়। মেহেরপুর জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন নিয়োগ পান। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘গুচ্ছে যুক্ত হতেই হবে। কারণ আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। যেহেতু কিছুটা সময় আছে, সে অনুযায়ী আবেদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াও চলমান। গতবার আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তাই এবার গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থান পরিদর্শনের কাজ চলছে।একাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য ইউজিসি বিষয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে।

নবপ্রতিষ্ঠিত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছি সেটির কাজ চলমান। সাবজেক্ট ও ক্লাস রেডি করার প্রক্রিয়াও চলমান। এগুলোর অগ্রগতির পর আশা করি  ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করাতে পারবো।

শিক্ষার্থীদে দুর্ভোগ লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দীর্ঘদিন ধরেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের তাগাদা দিচ্ছিল তদারকি সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো শুরু হয় গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। এরপর প্রতিবছরই এ আয়োজন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে প্রতিবারই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বের হয়ে একক ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। সর্বশেষ এবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এবার তারা এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো সময়ে ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।  

এদিকে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া সামনে রেখে ইতোমধ্যে দশটিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

তবে গুচ্ছভুক্ত সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভিসি জানিয়েছেন, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে শিগগিরই সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে, ভর্তি পরীক্ষা কবে হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নেবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘এর আগে একটা মিটিং হয়েছে। সে মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সামনে আরও মিটিং আছে। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে কীভাবে পরীক্ষা হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নেবে।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের একটি মিটিং হবে। ওই মিটিংয়ের আগে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে বা কবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা মিটিংয়ের পর বলতে পারব।’

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘গুচ্ছ ভর্তি কমিটির মিটিং নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গত বছরের ভর্তি কার্যক্রমের ক্লোজিং হয়েছে কিছুদিন হলো। এবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে সিদ্ধান্তও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এস্টাবলিশমেন্টের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালন করেছে, গতবার দায়িত্বে ছিল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারও ধারাবাহিকভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী দায়িত্ব যাবে।’

গতবার গুচ্ছে ছিল ২০ বিশ্ববিদ্যালয়
গত শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায় ছিল ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

ভালো অবস্থানে বিএনপির শরিকরা, বিজয়ী ৫ জনের চারজনই মন্ত্রিসভ…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশেই হবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, এ বছরেই চালুর আশা স্বাস্থ…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিশিং বোটে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জেলের
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিতসহ আরও ১০ স্থায়ী কম…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশুর, আহত ২
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কম্পিউটার-প্রিন্টারে তৈরি হতো জাল নোট, ৪৭ হাজার জাল টাকাসহ …
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9