শিক্ষামন্ত্রী কথা বলছেন © টিডিসি
আজ ১৭ আগস্ট। নতুন সরকার গঠনের পার হয়েছে ১৮০ দিন, অর্থাৎ ৬ মাস। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে নেওয়া অনেকগুলো উদ্যোগের কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ সরকারের ১৮০ দিন শেষ হলো। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখ করার মতো অনেকগুলো কাজ করা হয়েছে। তারপরও যদি আপনারা জানতে চান, কোন কাজটি করে আপনার সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি বা ভালো লেগেছে—আমি বলব, আসলে একটি শিশু জন্ম নেওয়ার পর যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তার শেখার পদ্ধতিও আস্তে আস্তে ডেভেলপ করে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের এই ‘হানিমুন পিরিয়ড’ রেখেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় তাঁর লক্ষ্য, নির্বাচনী এজেন্ডা ও নীতির সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রমকে অ্যালাইন করে। এসব ধারণা যেন আমরা ধীরে ধীরে গ্রহণ করি এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিই, সে জন্যই তিনি এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি রেখেছেন।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাইমারি এডুকেশন থেকে শুরু করে টারশিয়ারি এডুকেশন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে আমরা কর্মসূচি নিয়েছি। যেমন, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল—চিত্তবিনোদন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, স্পোর্টস, কালচার, রিলিজিয়াস ভ্যালুস, ফ্যামিলি ভ্যালুস এবং বিভিন্ন ধরনের এথিক্যাল ও মোরাল ভ্যালু—এসব বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার মাধ্যমে স্কুলে আসার বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২২ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর (ছেলে-মেয়ে) মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন স্পোর্টস কম্পিটিশনের আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে মেধাবী শিক্ষকদের পদক দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সেকেন্ডারি পর্যায়ে মিড-ডে মিলের বিষয় রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়েও এটি রয়েছে। এরপর সেকেন্ডারিতে ইনোভেশন শোকেস থেকে শুরু করে সেখানকার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় আমরা অ্যাড্রেস করেছি। ইউজিসির বিষয়গুলোও আমরা অ্যাড্রেস করেছি। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশের শিক্ষকদের আইসিটি প্রোগ্রাম নিয়েও কাজ করা হয়েছে। প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল ক্লাব উদ্বোধনের বিষয়টিও ছিল।
এগুলোর পাশাপাশি ভাষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিবেট, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্মোহ ইতিহাস—যেটা সত্য, ইতিহাস কখনো লেখা যায় না, তৈরি করা যায় না—সেই নির্মোহ ইতিহাস আমাদের বইগুলোতে নেওয়া হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা এসএসসি পরীক্ষা সুন্দরভাবে নিয়েছি এবং ফলাফল দিয়েছি। এই মুহূর্তে এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। এরপর প্রাথমিকের যে বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ ছিল, সেটিও আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষাও শুরু করেছি।
শিক্ষকদের অবসরভাতা নিয়ে মিলন বলেন, শিক্ষকদের অবসরভাতা সারা দেশে সবাইকে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছি। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও মোটামুটি সব জায়গায় সমাধানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রাথমিক স্কুলে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নেই। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা আমরা নিষ্পত্তি করেছি।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাবলিক স্কুলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা রিটেন পরীক্ষা শেষ করার পর মামলার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেটিও শেষ হয়েছে। আমরা কিছুদিনের মধ্যেই এর ভাইভার ব্যবস্থা করব।
আমাদের পাবলিক স্কুল সিস্টেম, মাদ্রাসা ও স্কুলে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সেই নিয়োগ দেওয়ার আগে যারা বিভিন্ন দূর-দূরান্তে পোস্টিংয়ে রয়েছেন, তাঁদের ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করছি। আশা করছি, আজকালের মধ্যেই ট্রান্সফারের বিষয়টি শুরু করতে পারব। এরপর আমরা নতুন নিয়োগের দিকে যাব।
আমাদের সরকারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে পিএসসি আছে। আমরা পিএসসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং কিছু কিছু করে ফলও পাচ্ছি। আমাদের কলেজে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে, সেটিও আমরা অ্যাড্রেস করছি।