শিক্ষামন্ত্রী, জাহিদ, তামান্না ও রাহুল দাস © সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া রাহুল দাস, তামান্না ও জাহিদ হাসানকে নিয়ে সুখবর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮১৭ প্রার্থীর তথ্য ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। এরপর যাচাই শেষে কতজনকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
রাহুল দাস, তামান্না ও জাহিদ হাসানের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে টেলিভিশনের পর্দায় আলমনগর ডাকঘর, ইকরাম উপজেলা জনাব রাহুল দাস, পিতা রবীন্দ্র দাস, মা তাপিলার বিষয়টি দেখেছি। তার একটি প্রতিবেদন আমরা দেখেছি, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মনে হয়েছে, যেন বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে। আমরা ফাইনালি তাকে চিঠি দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরেকজনকে আমরা দেখেছি, তার নাম তামান্না। স্বামীর নাম মোহাম্মদ আবু হোসেন পাটোয়ারী, মাতার নাম সেলিনা বেগম। তার ঠিকানা গ্রাম চাপাতিয়া, ডাকঘর পায়ে বাজার, উপজেলা মতলব দক্ষিণ। তার একটি প্রতিবেদনও আমরা দেখেছি, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। রেজাল্ট পাওয়ার আগেই এসব নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার চালানো হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
জাহিদ হাসানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আরেকজন মো. জাহিদ হাসান, পিতা আবু জাফর, গ্রাম লেজা, উপজেলা মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। এই তিনজনকে আমি দেখেছি এবং তাদের তথ্যের তালিকা আমি এখানে এনেছি।’
বর্তমানে নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮১৭ জনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পর্যন্ত আমাদের বাকি আছে ৮১৭ জন। পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে। ঠিকানা আসছে, সবকিছু আসছে। এই পর্যায়ে ৮১৭ জন রয়েছেন। আমি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মিডিয়ার অপপ্রচার দেখে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে একটি প্রেস দিয়েছিলাম। যাদের নিয়োগপত্র হয়নি, তাদের আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং যাচাই করছি। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত কারও ঠিকানা আসবে, কারও ভেরিফিকেশন আসবে। এরপর চূড়ান্ত যে সংখ্যাটি হবে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করব। আমরা এখনই জানি না, শেষ পর্যন্ত কতজন নিয়োগ পাবেন।’
এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ জেলার প্রার্থীরা দ্বিতীয় ধাপে নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বাকি জেলাগুলোতেও নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো থেকে তারা জানতে পেরেছেন। তবে যারা এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে কি না, সে বিষয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে।
রাহুল দাসের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে নিয়োগের জট খুলেছে। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার পর আলোচনায় আসা রাহুলকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
তামান্না আক্তারও লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি নিজ উপজেলা মতলব দক্ষিণের মেধাতালিকায় প্রথম এবং চাঁদপুর জেলায় ১১তম হয়েছিলেন। এরপরও ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মো. জাহিদ হাসানও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি। তার মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। তিনি শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত প্রার্থীরা নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন। বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলে অনেকের অপেক্ষার অবসান হলেও ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন কারণে কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এখন তাদের মধ্যে ৮১৭ জনের তথ্য ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ১ অক্টোবরের পর যাচাই শেষে তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।