ইউজিসি লোগো © সংগৃহীত
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও একাধিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ভোগান্তি কমাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ‘কেন্দ্রীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার’ তৈরির পাশাপাশি গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ইউজিসিকে কেন্দ্রীয় ভর্তি ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্যোগ নিতে বলেছে।
বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সুবিধামতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা, ফল প্রকাশ, সাক্ষাৎকার ও ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগে। কখনো এক শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম বছরের শেষদিকে শুরু হয়ে পরের বছরের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত চলে। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
আরও পড়ুন: যশোর শিক্ষা বোর্ডের শতভাগ ফেল করা ১১ বিদ্যালয়কে শোকজ
একই সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হলে অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের সব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান না। ঢাকার বাইরে পরীক্ষা দিতে গেলে যাতায়াত ও আবাসনের অতিরিক্ত খরচও বহন করতে হয়। এ ধরনের সমস্যা কমাতে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কখন আবেদন নেবে, কখন পরীক্ষা হবে এবং কখন ফল ও ভর্তি শেষ করবে—এসব নিয়ে একটি সমন্বিত সময়সূচি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা এখনও আগের পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করছি। তবে আগামীতে কোন পরিবর্তন হলে সেটা জানানো হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কয়েক বছর আগে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকায় শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এটি ইতিবাচক সাড়া ফেলে। প্রকৌশল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও পৃথক গুচ্ছ ভর্তি ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে জিএসটি গুচ্ছ ব্যবস্থায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যায়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়। আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও গুচ্ছ ব্যবস্থা থেকে বের হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।