গুচ্ছভুক্ত সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো © টিডিসি ফটো
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শিগগিরই মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। অন্যদিকে রাজশাহী, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে। তবে গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
গত বছর গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট আসন ছিল প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। এখন পর্যন্ত গত বছরের গুচ্ছভুক্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গতবারের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ই এবারও গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘এর আগে একটা মিটিং হয়েছে। সে মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সামনে আরও মিটিং আছে। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে করে পরীক্ষা হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নেবে।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের একটি মিটিং হবে। ওই মিটিংয়ের আগে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে বা কবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা মিটিংয়ের পর বলতে পারব।’
এছাড়াও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
আরও পড়ুন: ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করল ৭ বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘গুচ্ছ ভর্তি কমিটির মিটিং নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গত বছরের ভর্তি কার্যক্রমের ক্লোজিং হয়েছে কিছুদিন হলো। এবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে সিদ্ধান্তও হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এস্টাবলিশমেন্টের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালন করেছে, গতবার দায়িত্বে ছিল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারও ধারাবাহিকভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী দায়িত্ব যাবে।’
গতবার গুচ্ছে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলো- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।