ইংলিশ বয় মোস্তাফিজুর © টিডিসি সম্পাদিত
মোস্তাফিজুর রহমান মিশু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উর্দু বিভাগের প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী স্যোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ‘ইংলিশ বয় মোস্তাফিজুর’ নামে। ফেসবুকে ইংরেজিতে কথা বলে ভিডিও আপলোডের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি অর্জন করলেও অনেকেই তাকে বিদ্রুপ করে থাকেন। কিছুদিন আগে তার ইংরেজিতে আজান নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
এবার ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়া’র খবরে ভাইরাল হয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন বলে স্যোশাল মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে। অন্যদিকে মোস্তাফিজুর দাবি করেছেন, তিনি সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন বিইউপিতে। তবে পরীক্ষার হলে ভুলে পেছনের একজন পরীক্ষার্থীর (মেয়ে) রোল নম্বরের সঙ্গে তার রোল মিলে গেছে। তখন স্যাররা বলছে, এটা তুমি কী করেছ। ঘটনাটি ছিল ভুল বোঝাবুঝি। কিন্তু স্যোশাল মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয়েছে অন্যভাবে।
এ ঘটনার পর তাকে আটকের খবর বের হয়েছিল। তবে রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি বলেন, আমি সেফ আছি। সবাই এটা জানতে চেয়েছে তাই লাইভে আসলাম।
মুস্তাফিজুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী। জানতে চাইলে ওই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফারুক শাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এরকম একটি ঘটনা শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না।
বিইউপির একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছে, শনিবারের ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে সূত্রটি গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করে।
বিইউপির ভর্তি পরীক্ষার হলের একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে মোস্তাফিজুরকে জেরা করতে দেখা যায় হলের দায়িত্বরত শিক্ষককে। এ সময় তার রোল নম্বর মিলে যাওয়া ওই মেয়ে পরীক্ষার্থীকেও দেখা যায়। এ ঘটনাটি তিনি কাকতালীয় দাবি করলেও ওই মেয়ের সঙ্গে এর আগেও তাকে মেট্রোরেলে দেখা গেছে। ওই ছবিটিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে বিইউপির ফ্যাকাল্টি অব আর্টস এন্ড সোশ্যাল সায়েন্সের পরীক্ষা ছিল। এরপর বিকেলে স্যোশাল মিডিয়ায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তার আটকের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতে বিইউপির পাশে রাজধানীর পল্লবী থানা সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছে, এ ধরনের আটকের কোনো ঘটনা তাদের থানায় নেই।
এরপর রাত ১২টার দিকে লাইভে আসেন মোস্তাফিজুর। এ সময় তিনি বলেন, আমাকে নিয়ে একটি গুজব ছড়িয়েছে স্যোশাল মিডিয়ায়। বিষয়টা ক্লিয়ার করতে লাইভে এসেছি, সেটা আসলে সত্য নাকি সত্য।
‘‘আমি বিউপিতে পরীক্ষা দিয়েছি এটা সত্য। গতবার পরীক্ষা দিয়েছিলাম আমি, তবে কোন কারণে ভালো করতে পারিনি। এজন্য এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, বিউপির কোশ্চেন প্যাটান যেহেতু ইংলিশ ভার্সন। সো সারা বাংলাদেশে আমাকে ইংলিশ বয় হিসেবে সবাই চেনে, সো আমার তো উচিত ইংলিশে ভালো কিছু করা। সেই উদ্দেশ্য থেকে আমি চেয়ে ছিলাম যে আমি বিউপিতে ভালো কিছু করে দেখাবো। আলহামদুলিল্লাহ আমি বিউপিতে ইংলিশ ভালো করতে পেরেছি। সো এই জন্য কিন্তু আমি বিউপিতে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। আনফরচুনেটলি যে ঘটনাটি ঘটেছিল সেটা হলো যে আমার রোল নম্বরের সাথে আরেকজন ছিলো পেছনে মেয়ে। সো তার রোল নম্বরের সঙ্গে ম্যাচিং হয়ে গেছে। অর্থাৎ ফাইভ এর জায়গায় ফোর হয়েছিল ‘’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তখন দায়িত্বে যে টিচার ছিলে সেটা বুঝতে পেরে বললেন, কী করলে তুমি এটা। অন্যজনের রোল নাম্বার লিখেছ কেন। তার মানে তুমি অন্যজনের পরীক্ষা দিচ্ছ। এটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল।
‘‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি আমার আবেগের নাম। এখানে আমি যে সাবজেক্টেই পড়াশোনা করিনা কেন। আমি বিইউপিতে পরীক্ষা দিয়ে গিয়েছিলাম জাস্ট একটা উদ্দেশ্যে, আর সেটা হল যে বিউপির কোশ্চেন প্যাটার্ন ইংলিশ ভার্সন হয়। এজন্য আমি বিউপিতে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে এই সমস্যাটা তৈরি হয়ে আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না।’’