ঢাকার একটি কেন্দ্রের বাইরের চিত্র © সংগৃহীত
শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তীব্র বিরোধীতার পরও অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও সেটি উপেক্ষিত হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ছিল না হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এমনকি শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্রও ছিল না অনেক জায়গায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কঠোর স্বাস্থ্য অনুসরণের কথা কেবলমাত্র খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে যে পরিমাণ মানুষের জনসমাগম হয়েছে তাতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিল না। অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। পরীক্ষা শেষে গণ পরিবহন ব্যবহার করে বাড়িতে যাওয়ার সময় সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া সারাহ জেবিন জানান, কেন্দ্রের বাইরে আমরা লাইন ধরেছিলাম, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। এমনকি হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার কথা বলা হলেও সেটিও ছিল না। শুধুমাত্র থার্মাল স্ক্যানার রাখা হয়েছিল। তবে অনেকের শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলেও তাদের আলাদারুমে পরীক্ষা নেয়া হয়নি।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার এমন ঊর্ধ্বগামীতার মধ্যেও ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা নেয়ায় সংক্রমণ সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়বে। সংক্রমণের হার আরও বাড়বে। কেননা পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে যে পরিমাণ মানুষের জনসমাগম হয়েছে তাতে সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গ ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন চিকিৎসক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, করোনার লক্ষণ মাঝে মাঝে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। আজ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর বাইরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। এদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত। তবে কোনো লক্ষণ না থাকায় তারা বুঝতে পারেননি। এই ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনেকেই সংক্রমিত হবেন।
এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ডা. এ কে এম আহসান হাবীব। তিনি বলেন, করোনার কারণে আমরা কেন্দ্রগুলো অভিভাবকদের না আসতে অনুরোধ করেছিলাম। তবে তারা এসেছেন। কেন্দ্রের বাইরে ছাড়া সব জায়গায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।