পরীক্ষার্থী © ফাইল ফটো
দেশে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচদিন ধরে শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজারের ঘরে। করোনার এই ঊর্ধ্বমুখীতার মধ্যেই আগামী ২ এপ্রিল ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ভর্তিচ্ছুরা।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে; তাতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মতো মানসিক পরিস্থিতিতে তারা নেই। করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে তাদের বাড়ি থেকেই বের হতে দেয়া হচ্ছে না। এমন একটি দমবন্ধ হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে তারা ভর্তি পরীক্ষা দিতে চান না।
এ প্রসঙ্গে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া শিক্ষার্থী মারজান বিনতে মুরাদ বলেন, করোনার এমন ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই অবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো না। কেননা আমার সাথে আমার পরিবার জড়িত রয়েছে। পরীক্ষা দিতে গেলে তারা করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্ত হলে তার দায়ভার কি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর নেবে?
আরেক ভর্তিচ্ছু রাজ্জাকুল হায়দার বলেন, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিদিনই কোনো না কোনো মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার্থীর করোনায় আক্রান্তের খবর পাচ্ছি। এই অবস্থায় খুব ভয় হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তারাও ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাবেন। ফলে আমরা অনেকেই আক্রান্ত হতে পারি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের উচিৎ তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।
এদিকে করোনা ঝুঁকির মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জীবনের চেয়ে কখনোই ভর্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। সেখানে ভর্তি পরীক্ষা কেন নেয়া হচ্ছে?
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজ খুলছে না। তাহলে এই অবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করতে চাচ্ছে সেটি তাদের পরিস্কার করা উচিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। জাতির সামনে তাদের পরীক্ষা নেয়ার কারণ বলা উচিত।
তবে যথা সময়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে অটুট রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তর ও ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২ এপ্রিলই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হবে। পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা পেছাবেন না তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির এক সদস্য বলেন, আমাদের পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্ততি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা পেছানো হবে না। পরীক্ষার দিন স্বাস্থ্যবিধি পালনের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষার হলে সবাইকে মাস্ক পড়ে আসতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে। এছাড়া তিন ফিট দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের বসানো হবে। ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা থাকছে না।
তথ্যমতে, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রাজধানীসহ দেশের ১৯টি কেন্দ্রের ৫৫টি ভেন্যুতে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এবার রেকর্ডসংখ্যক এক লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন। গত বছর আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার। ১৯টি কেন্দ্রে ভেন্যুর সংখ্যা ছিল ২৭টি।
বর্তমানে সরকারিভাবে পরিচালিত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৩৭টি। এগুলোতে মোট আসন সংখ্যা চার হাজার ৩৫০। এ বছর এক লাখ ২২ হাজার ৮৭৪টি আবেদনের হিসাবে আসনপ্রতি লড়বেন ২৮ জন। আগামী ২ এপ্রিল সকাল ১০টায় দেশব্যাপী একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।