আসন ২ হাজার ২৭৫টি

ইবির ভর্তি পরীক্ষার খুটিঁনাটি তথ্য

ইবির ভর্তি পরীক্ষার খুটিঁনাটি তথ্য
ফাইল ছবি

আগামী ৩ থেকে ৭ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ৮টি ইউনিটের পরিবর্তে ৪টি ইউনিটের অধীনে ৩৩টি বিভাগে মোট ২ হাজার ২৭৫ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

তাছাড়া গত বছরের ন্যায় এবারও থাকছে ‘ফরেন স্টুডেন্ট সেল’।  যার অধীন দক্ষিণ এশিয়া, সার্কভুক্ত ও মধ্যপ্রাচসহ সকল দেশের শিক্ষার্থীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন।  প্রতি বিভাগে দুই জন করে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন।

নিচে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে খুটিঁনাটি কিছু তথ্য তুলে ধরা হল-

আসন সংখ্যা বৃদ্ধি : সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছর মেয়াদী অর্গানোগ্রাম পাশ হয়েছে। এতে বিভিন্ন অনুষদের অধীনে ২৮টি নতুন বিভাগ খোলার কথা রয়েছে।

তবে এ বছর কোন বিভাগ খোলা হবে কিনা এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এ বছর কোন নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দিলে সে ক্ষেত্রে আমরা বিভাগ চালু করতে পারবো তার আগে না।’

এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল ও অন্যান্য নীতিমালা : এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ৮টি ইউনিটের পরিবর্তে ৪টি ইউনিটের অধীন অনুষ্ঠিত হবে।  গত ৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  যেহেতু এবছর ৮টি ইউনিটের পরিবর্তে ৪টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেহেতু ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বন্টনসহ অন্যান্য নীতিমালা পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, ‘৮টি ইউনিটের পরিবর্তে ৪টি ইউনিটের এ বছর ভর্তি হওয়ার সিদ্ধানের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির অধীন বিষয়টি যাচাই বাচায়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে।’

তাছাড়া দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় এ বছর থেকে ভর্তি পরীক্ষায় এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল করা হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

ভর্তি পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ : ভর্তি পরীক্ষার মান হবে ১২০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষার মান হবে ৮০ নম্বর।  লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সাথে পরীক্ষার্থীর এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় জিপিএ (সর্বোচ্চ ৫+৫=১০ নম্বর) কে ৪ দিয়ে গুন করে প্রাপ্ত নম্বর সর্বাধিক (২০+২০=৪০) নম্বর যোগ করে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে এবং ওএমআর পদ্ধতিতে উত্তর মূল্যায়ন করা হবে।  ভুল উত্তরের জন্য .২৫ নম্বর কাটা যাবে। একজন পরীক্ষার্থী ৮০ নম্বরের মধ্যে ৩২ পেলে কৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে।

ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন : এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ৮টি ইউনিটের পরিবর্তে ৪টি ইউনিটে গ্রহন করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  সে অনুযায়ী ‘এ’ ইউনিটের অধীনে ধর্মতত্ব অনুষদের ৩টি বিভাগ, ‘বি’ ইউনিটের অধীনে মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ১০টি এবং আইন ও শরীয়াহ অনুষদের ৩টি বিভাগসহ মোট ১৩টি বিভাগ।  ‘সি’ ইউনিটের অধীনে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৬টি বিভাগ এবং ‘ডি’ ইউনিটে অধীনে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ১১টি বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘এ’ ইউনিট : ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ভূক্ত ৩ টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় আরবীতে ১০, আল কুরআনে ১৫, আল হাদীসে ১৫, দাওয়ায় ১০, ইসলামী শিক্ষায় ৫, আল ফিকহে ৫, ইসলামের ইতিহাসে ৫, বাংলায় ৫, ইংরেজিতে ৫ এবং সাধারন জ্ঞানে ৫ নম্বর থাকবে।

‘বি’ ইউনিট : মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ১০টি বিভাগে ভর্তির জন্য বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০, এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে বাংলা বিভাগে ভর্তির জন্য বাংলা বিষয়ে নূন্যতম ১৮ নম্বর পেতে হবে।  ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম ১৮ নম্বর পেতে হবে এবং মাধ্যমিক/ সমমান ও উচ্চমাধ্যমিক/ সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। আরবী বিভাগে ভর্তির জন্য এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান উভয় ক্ষেত্রে আরবী ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হবে। ইসলামের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম ১৩ নম্বর পেতে হবে।

অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্যইংরেজিতে ৩০, সাধারণ জ্ঞানে ৩০ এবং বাংলায় ২০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে নূন্যতম ১২ নম্বর পেতে হবে। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে নূন্যতম ১৫ নম্বর পেতে হবে।

এছাড়া আইন ও শরীয়াহ অনুষদের ৩টি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং সাধারন জ্ঞান ২০ নম্বর থাকবে। আইন ও ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে নূন্যতম ১৫ নম্বর পেতে হবে। আল ফিকহ্ বিভাগে ভর্তির জন্য অবশ্যই আরবী ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

‘সি’ ইউনিট : ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভূক্ত ৬ টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ৪০ বাধ্যতামূলক সকল শাখার জন্য। বানিজ্য শাখা থেকে আগতদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষায় ২০ এবং হিসাব বিজ্ঞানে ২০ নম্বর থাকবে। অন্যান্য শাখা থেকে আগতদের জন্য সাধারন গণিতে ২০ এবং সাধারন জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তায় ২০ নম্বর থাকবে। কৃতকার্য হওয়ার জন্য প্রত্যেক শাখার জন্য ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম ১৬ নম্বর পেতে হবে।

‘ডি’ ইউনিট : ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভূক্ত ৫টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় রসায়নে ৩০, জীব বিজ্ঞান/গনিতে ৩০, পদার্থ বিজ্ঞানে ১০ এবং ইংরেজিতে ১০ নম্বর থাকবে। ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে ভর্তির জন্য এইচএসসি পর্যায়ে গনিতে জিপিএ-৩.৫ থাকতে হবে এবং রয়াসনে নূন্যতম ১২ নম্বর পেতে হবে। ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পর্যায়ে অবশ্যই জীব বিজ্ঞান পঠিত বিষয় হিসেবে থাকতে হবে এবং এমসিকিউ এর জীব বিজ্ঞানে নূন্যতম ১০ পেতে হবে। ফার্মেসি বিভাগে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় রসায়ন, জীব ও গণিতে জিপিএ-৩.৫ থাকতে হবে এবং এমসিকিউ এর রয়াসন, জীব বিজ্ঞান/গণিতের প্রতিটিতে নূন্যতম ১২ নম্বর পেতে হবে।

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান ৪০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে এবং কৃতকার্য হওয়ার জন্য প্রত্যেক বিষয়ে নূন্যতম ১৪ নম্বর পেতে হবে। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কৃতকার্য হওয়ার জন্য প্রত্যেক বিষয়ে নূন্যতম ১৪ নম্বর পেতে হবে এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় রসায়ন, জীব বিজ্ঞান ও গণিতে জিপিএ-৩.৫ থাকতে হবে। এছাড়া বাকি ২টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় গনিতে ৬০ এবং ইংরেজিতে ২০ নম্বর থাকবে। কৃতকার্য হওয়ার জন্য গনিত বিষয়ে নূন্যতম ২৪ নম্বর এবং ইংরেজিতে ৫ নম্বর পেতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য : ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ঘন্টা। লিখিত পরীক্ষায় নূন্যতম ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩২ নম্বর পেয়ে পাশ করতে হবে। প্রতিটি ভূল উত্তরের জন্য .২৫ নম্বর কাটা হবে। ভর্তি পরীক্ষা শেষের তিন দিনের মধ্যে সকল ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হবে। ভর্তি পরীক্ষার স্থান, আসন বিন্যাস ও ভর্তি সক্রান্ত অন্যান্য তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অফিস থেকে জানা যাবে।

পরীক্ষার হলে যা আনতে হবে : ডাউনলোডকৃত প্রবেশপত্রের দুই কপি। উভয় কপি পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক সত্যায়িত করবেন। উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র প্রত্যেকটির দুই কপি।

পরীক্ষার হলে যা বর্জ্যনীয় : পরীক্ষার হলে কোন ব্যাগ নিয়ে পরীক্ষার্থীকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এছাড়া মোবাইল, ব্লুটুথ, ক্যালকুলেটর, ঘড়িসহ সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষার হলে নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.iu.ac.bd) থেকে জানা যাবে।


মন্তব্য

x