সিটি কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত
টানা আন্দোলন, পরীক্ষা স্থগিতের দাবি এবং পরীক্ষা শেষে ঘোষিত ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক।
বুধবার সকাল ১০টায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সপ্তম দিনের পরীক্ষা শুরু হয়। রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ কেন্দ্রের ফটকের সামনে, কেউ গাছের ছায়ায়। আবার কেউ ফুটপাতে অপেক্ষা করছিলেন। অনেক অভিভাবকের মুখে ছিল উদ্বেগের ছাপ। কেউ কেউ জানান, পরীক্ষা শেষে সন্তানদের একা বাড়ি ফিরতে দেবেন না। সঙ্গে করেই তাদের বাসায় নিয়ে যাবেন।
আজ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিকে ঘিরেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে ফের ভারী বৃষ্টির আভাস, কতদিন থাকবে জানালেন আবহাওয়াবিদ
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সায়েন্সল্যাব মোড়েও পুলিশের ৫০ জনের বেশি সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ওই এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
ঢাকার শিক্ষার্থীরা কয়েকটি স্থানে জড়ো হয়ে সেখান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা উত্তরার বিএনএস সেন্টার, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও মগবাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে সেখান থেকে লংমার্চ শুরু করার কথা রয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।