বৃষ্টির পূর্বাভাস © সংগৃহীত
দেশে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। আগামীকাল থেকে কয়েক দিন বৃষ্টি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। তবে গত সপ্তাহের মতো টানা ভারী বৃষ্টি হবে না।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। লঘুচাপটি পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার দিকে চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাগরে লঘুচাপ থাকলে ঢেউ কিছুটা বাড়ে। এতে নৌযান চলাচলে সমস্যা হতে পারে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখানো হয়েছে। আগামীকাল ও পরশু বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। ১৭ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টানা ভারী বৃষ্টি হবে না।
ড. বজলুর রশিদ বলেন, এবারের বৃষ্টিপাত আগের মতো অতিমাত্রায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগে কোথাও কোথাও ২০০ থেকে ৩০০ বা ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এবার তেমন বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে কোথাও কোথাও প্রায় ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়। এর পেছনে সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ছিল। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম থেকে বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হয়। পরে তা সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলতি মাসের মোট বৃষ্টির ৭৯ শতাংশ হয়েছে। বৃষ্টি কমে যাওয়ায় গতকাল দেশের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এতে গরমও বেড়েছে। রাজধানীতে গতকাল তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আজ তাপমাত্রা আর বাড়বে না বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আজ সকাল সাতটায় দেওয়া পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসেও ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হলে তা দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এই বৃষ্টিও দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং এর আওতাধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার দেশের কয়েকটি অঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল দুর্বিষহ। নোয়াখালীর হাতিয়ার কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পানি জমে যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত পরিবার জলাবদ্ধতায় আটকা পড়ে।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও ভাষাসৈনিক অজিত গুহ কলেজ কেন্দ্রেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরীক্ষার্থীদের নৌকা, ভ্যান ও কোমরসমান পানি পেরিয়ে কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়।
এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। অনেকে সোমবারের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করেছে শিক্ষা বোর্ড।
আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ফের সৃষ্টি হলো লঘুচাপ, তিন নম্বর সতর্ক সংকেত
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের ১৩ জেলায় পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান তারা। ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান তারা।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পরীক্ষা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে একতরফাভাবে নেওয়া হয় না। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্র এবং আশপাশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন পাঠায়। তারা যদি জানায় যে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিস্থিতি নয়, শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। কোথাও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে বা স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হলে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে এ ধরনের সুপারিশ না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান আরও বলেন, পরীক্ষা পেছালে শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়। তারা দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসেন। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরিস্থিতি একেবারে অস্বাভাবিক হলে অবশ্যই পরীক্ষা স্থগিত করা হবে।