এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ PM
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ © সংগৃহীত

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলমান রাখার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকাসহ বাংলাদেশের কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও দেখা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তারা আরো দুটি দাবি তুলেছে। সোমবার যারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়নি তাদের পরীক্ষা নেওয়া এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতা পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগী’ বলেছেন দাবি করেও তারা প্রতিবাদ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে প্রথমে রাজধানী ঢাকা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ হয়। এ সময় ধানমন্ডি থেকে নিউ মার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে যানজটের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে সড়কেই গোল হয়ে বসে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। প্রথমে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সমাবেশের আয়োজন করলে পরে এতে অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে। দেড়টার দিকে ওই স্থান থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর প্রায় তিনটা পর্যন্ত তাদের সেখানে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১২টায় উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনেও সড়ক অবরোধ করে সেখানকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় বিমান বন্দরের দিকে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নে পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি এবং প্রশ্নপত্রের ভুল নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ডিসি, ইউএনও ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে ‘বৃষ্টি হবে না’ এমন তথ্য পাওয়ার পরে সোমবারের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদিন সারাদেশে কেবল কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই বন্যার পানি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের ডিসিদের সাথে কথা বলেছি এবং ইউএনওদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে যে, কোথাও কোনো দুর্যোগ ঘটেনি। একটিই শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজে ঘটেছে। 

এদিকে, সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্নে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে রাতেই এক গণবিজ্ঞপ্তি দেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বন্যা ও দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে শনিবারই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ই জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।

পরীক্ষার্থীদের যেসব দাবি
সোমবার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। কোনো কোনো জায়গায় পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন জনকে পোস্ট করতে দেখা যায় সামাজিক মাধ্যমে। এরপরই মঙ্গলবার রাজধানীর একাধিক পয়েন্টে বিক্ষোভ দেখা যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে সরকারি বাংলা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সিটি কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।

সকালে অবস্থান নিয়ে তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। বিক্ষোভকারী ‘তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগী, ফার্মের মুরগী’, ‘দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’ এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কয়েকজন পরীক্ষার্থী তাদের ক্ষোভের কথা জানান এবং তাদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। একজন পরীক্ষার্থী দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষামন্ত্রী, ওনার যে সাংগঠনিক দুর্বলতা। কুমিল্লা শহর পানিতে ডুবে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বোনেরা কুমিল্লায় পরীক্ষা দিতে পারে নাই। এর ওপরে পরীক্ষায় প্রশ্নের প্যাটার্ন হইছে কড়া লেভেলের। পরীক্ষা স্থগিত করা দরকার ছিল এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মেইন দাবি বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হোক।’

আরেক শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘এখানে আমরা এসেছি মিলনের পদত্যাগের দাবিতে। কয়েকদিন ধরে দেশে যে দুর্বিষহ অবস্থা, এই অবস্থার মধ্যেও তিনি ইন্টার (এইচএসসি) পরীক্ষা চালু রেখেছেন। যেখানে সারা বাংলাদেশ ডুবে গিয়েছে, সেখানে তিনি পরীক্ষা চালু রেখেছেন। কালকে দেখেছি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় একজন পরীক্ষার্থী ড্রেনে পড়ে গেছেন। আমাদের দফা এক, দাবি এক, তার পদত্যাগ চাই।’

এক পর্যায়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির এই সমাবেশে পরীক্ষার্থীদের কিছুসংখ্যক অভিভাবককেও অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। একটি গণমাধ্যমে একজন অভিভাবক নিজেকে পরীক্ষার্থীর মা উল্লেখ করে তাদের দাবির সাথে শরিক হয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘এই বিরূপ পরিস্থিতি, বিরূপ প্রকৃতি, বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত বলেছে, সমন্বিত প্রশ্নে পরীক্ষা হবে, সেটাও হুট করে নেওয়া হচ্ছে। খুব বেশি সময় আমাদের বাচ্চারা পায়নি। তারপরে যখন পরীক্ষা হচ্ছে তার কয়েকদিন আগেও বলেছে, যদি কোনো জায়গায়, কোনো কেন্দ্রে সমস্যা হয় তাহলে সারা বাংলাদেশের পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে, যেহেতু অভিন্ন প্রশ্নপত্রের কথা বলেছে।’

তিনি দাবি করেন, সোমবারের পরীক্ষায় ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। এই দায় রাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশ্নে ভুল, যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা। গতকালের কথা শুধু বলি, ১৯ হাজার বাচ্চা পরীক্ষায় বসতে পারেনি। এই দায় কার? এই দায় রাষ্ট্রের, এই দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, এই দায় অবিবেচকের মতো নেওয়া সিদ্ধান্তের। আমি এটার প্রতিবাদ জানাতে একজন মা হিসেবে শরিক হয়েছি আমার সন্তানদের সাথে।’

প্রায় দুই ঘণ্টা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থানের পর সেখান থেকে উঠে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা টিএসসিগামী ওই সড়কেই অবস্থান নেন। সেখান থেকে দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে প্রায় ঘণ্টা খানেক অবস্থান করেন।

এদিকে, একই সময়ে উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা হাই স্কুল ও কলেজ, টঙ্গী সরকারি কলেজ এবং সানরাইজ কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে, দুই জায়গাতেই অনেককে আইডি কার্ড ছাড়াই অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এ সময় তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এই রিপোর্ট লেখার সময় তারা উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল।

এছাড়া ঢাকার বাইরে বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট, সুনামগঞ্জেও বিক্ষোভে খবর দিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম। বরিশালের বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৯ হাজারের বেশি
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।

এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেটসহ নয়টি শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের সোমবারের পরীক্ষায় সারাদেশে ১৯ হাজার ৫৯২ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাব বিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষায় মোট ১১ হাজার ৭২৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে অফিস ম্যানেজমেন্ট ও ব্যবসায় সংগঠন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন দুই হাজার ৬৯৩ পরীক্ষার্থী। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় পাঁচ হাজার ১৭০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যা বলছেন
এদিকে, সারাদেশে মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলনের কথা তুলে ধরে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন - পরীক্ষা কেন পেছানো হয়নি ।

একইসঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুইটি প্রশ্নে ভুল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সকলের সাথে আলোচনা করে ‘বৃষ্টি হবে না’ এমন তথ্য পাওয়ার পরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি জানান, সারা বাংলাদেশে ৬৪ জেলায় একত্রে প্রায় ২ হাজার ৭০০ সেন্টারে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার খবর পাওয়ার পর এক এক জেলা করে পর্যায়ক্রমে পুরো বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছিলাম বৃষ্টি হচ্ছিল এবং মনিটরিং করছিলাম। সেইসাথে মনিটরিং এর সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার বা এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার ও প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনও প্রত্যেকের সাথে কথা বলেছি। ওয়েদার ম্যান ব্রডকাস্টিং এর জন্য তাদের সাথেও কথা বলেছি। তারা বললো যে বৃষ্টি হবে না। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা বসে থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, সকলেই বললো ওয়েদার ভালো হবে, সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছি।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই শিক্ষামন্ত্রী কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে বলে দেখতে পান। তিনি সংসদে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন।

পরে পরীক্ষার্থীদেরকে নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচ তলা ভবন নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী মি. মিলন জানান, সারা বাংলাদেশের ডিসি এবং ইউএনওরা তাকে শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজের ঘটনা ছাড়া কোথাও কোনো দুর্যোগ ঘটেনি বলে জানায়।

একইসঙ্গে, পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মডারেটরের ওপর দায় চাপান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফিজিক্সের ছয় ও সাত প্রশ্ন দুটি ভুল হয়েছে। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস। আগের কোয়েশ্চেন মডারেটর কোয়েশ্চেন করেছিল। আপনি জানেন যে, কোয়েশ্চেন মডারেট করতে হলে এই প্রক্রিয়াটি দুই বছর আগে শুরু করতে হয়। আমরা এসে কোনো কোয়েশ্চেন তৈরি করতে পারিনি। বিগত গভর্নমেন্টের যে মডারেটর ছিল তারাই কোয়েশ্চেন করেছে।

তবুও তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নে পুরো নম্বর দেওয়া ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ঘটনাটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি জায়গায় শুধু কুমিল্লা সরকারি মহা বিদ্যালয় এই ঘটনাটি ঘটেছে এবং সেখানে পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছি, পরীক্ষা বিলম্বতে শুরু করার জন্য এবং যেই মেয়েটির কাপড় ভিজে গেছে বাড়ি থেকে কাপড় আনা হয়েছে, এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী কেবল একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভোগান্তির কথা উল্লেখ করলেও সোমবার দেশের অনেক জায়গায়ই পরীক্ষা কেন্দ্রে বন্যার পানি ছিল বলে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে, এ ধরনের দুর্যোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ডিসি ও ইউএনওদের হাতে থাকে বলেও জানান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতিকে জ্ঞাতার্থ করতে চাই যে, পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমাদের যে সিস্টেম রয়েছে সেখানে লোকাল যে গভর্নমেন্ট রয়েছে, ডিসি হতে, ইউএনও হতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন পরীক্ষা নেওয়া যাবে কী যাবে না। যদি তারা মনে করেন দুর্যোগ তাহলে পরীক্ষা বন্ধও করতে পারেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বারবার কথা বলেছি, তারা বলেছে, না স্যার আমরা ঠিকমতোই নিচ্ছি। আপনারা দেখতে পেয়েছেন যে বৃষ্টির পানি কোথায় কোথায় ছিল সেগুলো আমরা সকলেই লক্ষ্য করেছি। কোমলমতী সন্তানদের জন্য আমাদেরও মায়া রয়েছে। সেইজন্য আমরা সবসময় মনিটরিং করি।

পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ দুর্ভোগে পড়েনি: ড. মাহ্‌দী আমিন
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী শিক…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বিএএফ শাহীন কলেজ চট্টগ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে অ্যাডমিশন ‘ফেয়ার সামার…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
উচ্চশিক্ষার সংকট উত্তরণে ‘নলেজ ইন্ডাস্ট্রি’র স্বীকৃতি অপরিহ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা পড়লেন চট্টগ্রামে আন্দোলনরত এ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence