ইউরোপের সঙ্গে ফের যুক্ত হতে মধ্যমপন্থি বিকল্পের কথা ভাবছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ PM
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম © টিডিসি ফটো

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যোগ দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করেছেন দেশটির বর্তমান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিভাজনমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এ আলোচনা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। 

ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হওয়া নিয়ে বার্নহ্যামের পূর্বসুরি বরিস জনসন সরকারের করা ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের অর্থনীতি এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ব্রেক্সিট নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। খবর গার্ডিয়ানের

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের এক দশকের মধ্যেই ব্রিটিশদের মধ্যে একধরনের অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। বিপরীতে, এখনো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এ সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছেন। ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশও এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত।

প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রেক্সিটের কারণে অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি সত্য হয়নি। তবে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ থেকে ৮ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্পাদকীয়তে এই ক্ষতিকে আধুনিক সময়ে ব্রিটিশ সরকারের নেওয়া সবচেয়ে বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের কিছু বাধা কমানোর উদ্যোগ নেন। এ সময় তরুণদের বিনিময় কর্মসূচি ও মাংস রপ্তানি নিয়ে সীমিত পরিসরে কয়েকটি চুক্তি হয়। তবে বার্নহ্যাম এ উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিতে চান। আগামী মাসে ব্রাসেলসে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সম্প্রতি পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের গাড়িশিল্পের ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। কৃষি খাতও এখনো নানা ধরনের বিধিনিষেধ ও নিয়মকানুনের জটিলতায় আটকে আছে। মাছ পরিদর্শনকেন্দ্রে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, সীমান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গাড়ি ও যাত্রীদের।

তবে ব্রেক্সিটের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির দেওয়া গণভোটের ফল মেনে চলার প্রতিশ্রুতি এই সংসদীয় মেয়াদে ভঙ্গ করা হবে না। তবে তিনি ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে চান। ভবিষ্যতে একদিন ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে বলেও ব্যক্তিগতভাবে আশা করেন তিনি।

এ মুহূর্তে বার্নহ্যাম চান, ইউরোপের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাব্য দিকগুলো নিয়ে ‘সৎ আলোচনা ও উন্মুক্ত কথোপকথন’ হোক। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টধারীদের জন্য অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলেছেন। তবে বিষয়টি কতটা স্পর্শকাতর, তা বোঝা গেছে ব্রেক্সিটপন্থী রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়ায়। রিফর্ম ইউকের নেতা ন্যাগেল ফারাজ একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বার্নহ্যামের সতর্কভাবে এগোনোর আরেকটি কারণ হলো, ব্রেক্সিট নিয়ে মানুষের অনুশোচনা থাকলেও এর বিকল্প কী হবে, সে বিষয়ে ঐকমত্য নেই। জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনের ৫৫ শতাংশ মানুষ আবার ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে। কিন্তু এর শর্ত হিসেবে আগের বিশেষ সুবিধা ও ছাড়গুলো ছেড়ে দিতে হলে সমর্থন কমে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। এর অর্থ, ইইউতে ফিরলে ব্রিটেনকে ইউরো মুদ্রা গ্রহণ এবং শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টমুক্ত ভ্রমণব্যবস্থায় অংশ নিতে হতে পারে।

ব্রেক্সিটের একটি মধ্যপন্থি বিকল্প মডেলও থাকতে পারে। এর আওতায় বৃহত্তর ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ব্রিটেনের জন্য বিশেষ অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্যদেশ এ ধরনের ব্যবস্থায় আপত্তি জানাতে পারে। বিকল্প হিসেবে ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার (ইএফটিএ) সদস্যপদ অথবা কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ব্রিটেনের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেই দ্বিধাপূর্ণ। অতীতে আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইইউবিরোধী গণভোটের ফল পরিবর্তনে ব্রাসেলসের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ ছাড় আদায় করেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ ধরনের কোনো সমাধানের চেষ্টা করেননি। তিনি সরাসরি পদত্যাগ করেন।

গণভোটের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনার সময় অনেক সংসদ সদস্যই ‘সফট ব্রেক্সিট’ বা তুলনামূলক নমনীয়ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। তবে তখন এর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়নি।  সে সময় দায়িত্বশীল পার্লামেন্ট চাইলে এ ধরনের সমাধানের জন্য একটি জোট গঠন করতে পারত। কিন্তু জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। এর ফলে বরিস জনসন ও তার ‘হার্ড ব্রেক্সিট’পন্থীদের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি হয়। ব্রাসেলসের সঙ্গে বাস্তবসম্মত সমঝোতার চেয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের দলীয় রাজনীতিই তখন বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে বার্নহ্যামকে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ রাজনীতির সংস্কৃতি প্রায়ই আলোচনার বদলে সংঘাতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যায়। ইউরোপের অনেক দেশ এখনো সন্দিহান, ব্রিটেন সত্যিই আবার ইইউতে ফিরতে চায় কি না। বিশেষ সুবিধা বা ছাড়ের ব্যাপারে ব্রিটেন অতিরিক্ত দাবি জানালে তারাও আপত্তি জানাতে পারে।

বার্নহ্যামের আলোচনা শুরু করার উদ্যোগটি সময়ের বিবেচনায় সঠিক। তবে এর আগে ব্রেক্সিটকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে হবে এবং এ ইস্যুর প্রাধান্যও কমিয়ে আনতে হবে। আপাতত ব্রিটেনের ইইউতে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। তাই এখনই দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্কেরও প্রয়োজন নেই। বরং বাণিজ্য, বিধিবিধান ও বিভিন্ন প্রটোকল নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা হওয়া উচিত, যেখানে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সমঝোতার সুযোগ থাকবে।

ব্রেক্সিট আলোচনা শুরুর জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি শক্তিশালী সর্বদলীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। কমিটিটি আগামী নভেম্বরের আলোচনা পর্যবেক্ষণ করবে এবং বার্নহ্যামের শুরু করা সংলাপকে এগিয়ে নেবে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বাধা কমানো এবং ইউরোপের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করাই হওয়া উচিত কমিটির প্রধান লক্ষ্য। 

কারাবন্দী স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার যুবদ…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শূন্যকে ৪৫, ১-কে ৪৬, ৪-কে ৬৫, ৯-কে ৬৬—মোট ১০ বিষয়ে ফেল করা …
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বিভাগ করার দাবি বিএনপি নেতার
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সংকট নিরসনে অবসরপ্রাপ্তদের যুক্ত করার…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ইউরোপের সঙ্গে ফের যুক্ত হতে মধ্যমপন্থি বিকল্পের কথা ভাবছেন …
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চিকিৎসা শিক্ষা-নার্সিং-ফার্মাসি…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬