ককরোচ জনতা পার্টির মোকাবিলায় দিল্লিতে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ আত্মপ্রকাশ

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ AM , আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ AM
লাল হিট জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ

লাল হিট জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ © টিডিসি ছবি

ভারতের দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) মোকাবেলায় ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ নামে নতুন একটি দল আত্মপ্রকাশ করেছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে প্রথম সদস্য সংগ্রহের জন্য সভা আয়োজন করে দলটি।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির কনট প্লেসসহ বিভিন্ন এলাকায় ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের মধ্যে নতুন দলটি আত্মপ্রকাশ করে। সভায় দলটির প্রধান আয়ান ভাটনগরসহ অন্য বক্তারা ককরোচ জনতা পার্টি, কংগ্রেস ও বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।

লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান আয়ান ভাটনগর বলেন, দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে একত্র করা সম্ভব, তা দেখানোর জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মানুষকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানালে কত মানুষ সাড়া দেবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

দশেরাকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে ভাটনগর বলেন, মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। বক্তব্যের সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের বোঝাতে ‘পোকামাকড়’, ‘তেলাপোকা’ ও ‘তেলাপোকার মতো প্রাণী’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন।

ভাটনগর বলেন, দশেরা থেকে দীপাবলি পর্যন্ত সময়টি দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক মৌসুম। এ সময় কনট প্লেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করা মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা দিল্লিসহ একাধিক মহানগরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের ‘সরকার পরিবর্তন’ সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ভাটনগর প্রশ্ন করেন, বিক্ষোভ করে কীভাবে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব? তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করার মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করা হচ্ছে।

ভাটনগর বলেন, আজ যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা হয়, তাহলে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে। তাঁর মতে, কোনো গোষ্ঠীর ৫০ হাজার মানুষ একত্র হলেই তাদের দাবি মেনে নেওয়া যায় না।

২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য চালু হওয়া ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন ভাটনগর। তিনি বলেন, ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করার আগে বিক্ষোভকারীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং আগের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের কার্যকাল সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত।

ভাটনগর বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে লাল হিট জনতা পার্টি গঠন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের উদ্দেশ্য হলো পুলিশের ওপর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করা।

ভাটনগরের দাবি, কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হলো বিজেপি সরকারকে সরিয়ে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে। ককরোচ জনতা পার্টির সমালোচনা করে ভাটনগর বলেন, তাদের বিক্ষোভের কোনো রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না।

বিক্ষোভের সময় পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ভাটনগর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সূর্য নমস্কার করেন এবং মৌখিক অপমান সহ্য করতে পারেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে অন্য সবাইকেও অপমান সহ্য করতে হবে।

ভাটনগর বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপমান করা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দশেরার দিন থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পতনের সূচনা হবে। এ সময় তিনি দশেরাকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কথক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্ত বলেন, দেশকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে মানুষের চিন্তা করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ভারতের ভাবমূর্তি উন্নত হয়েছে।

রিচা গুপ্ত বলেন, ভারতে বিপুলসংখ্যক তরুণ রয়েছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, তরুণেরা সঠিক পথে এগোনোর পরিবর্তে অন্যদের অনুসরণ করছেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক পবন বলেন, ‘যেখানে তেলাপোকা থাকবে, সেখানে অবশ্যই হিট থাকবে।’ কীটনাশক ব্র্যান্ড ‘হিট’-এর নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পবনের দাবি, আন্দোলনের কারণে ব্যবসায়ীদের ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পবন বলেন, গত তিন দিন ধরে তিনি লাল হিট জনতা পার্টির কার্যক্রম অনুসরণ করছেন।

ভাটনগর বলেন, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকেও লাল হিট জনতা পার্টি সমর্থন পাচ্ছে। অনুষ্ঠানের বক্তারা মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

সূত্র: এনডিটিভি

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চার পদে নতুন মুখ
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা ইউজি…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
পদত্যাগ নিয়ে ইশরাকের দেওয়া স্ট্যাটাসে ‘চ্যাটজিপিটির নির্দেশ…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির মোকাবিলায় দিল্লিতে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সকালে ব্রাশ করার আগে পানি পান, নাকি চা-নাস্তা কোনটা স্বাস্থ…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬