ভর্তির সুযোগ না পেয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটই হ্যাকড শিক্ষার্থীর, অতঃপর...

৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৭ PM , আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ PM
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি © সংগৃহীত

ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-কানপুর (আইআইটি-কানপুর) থেকে ভর্তি না হওয়ার পর ক্ষোভে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশ করেন এক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে আইআইটি-মাদ্রাজের ওয়েবসাইটেও প্রবেশের দাবি করেন তিনি। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত দক্ষতা যাচাই করে ভবিষ্যতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে আইআইটি-কানপুর।

সম্প্রতি আইআইটি-কানপুরের সদ্য চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে আবেদন করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। তবে প্রাথমিক বাছাইয়ে তিনি নির্বাচিত হননি। এরপর তিনি আইআইটি-কানপুর ও আইআইটি-মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন বলে দাবি করেন।

আইআইটি-কানপুরের ওয়েবসাইটে তিনি একটি বার্তাও রেখে যান। সেখানে লেখা ছিল, ‘Site is hacked. All I need is just a fair chance.’ অর্থাৎ, ‘ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। আমি শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ চাই।’

ঘটনাটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ও রেডিটে পোস্ট দিয়ে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেন, আইআইটি-কানপুরের স্নাতক পর্যায়ের সাইবার সিকিউরিটি প্রোগ্রামে আবেদন বাতিল হওয়ার পরই তিনি দুই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন। পরে তিনি কথিত অনুপ্রবেশের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন।

তার দাবি, উদ্দেশ্য কোনো ক্ষতি করা নয়; বরং নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রমাণ করা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, ভর্তি প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন করেছিলেন। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেন। প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেন। সাইবার সিকিউরিটি–সংক্রান্ত নিজের কাজের প্রমাণও দাখিল করেন। কিন্তু তাকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়নি। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত হ্যাকাথনে অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি।

এ বিষয়ে আইআইটি-কানপুরের পরিচালক মনিন্দ্র আগরওয়াল বলেন, সাইবার সিকিউরিটিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়নি।

তিনি বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন তাকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়। তবে শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। সেখানে তিনি দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারলে পরবর্তী ভর্তি চক্রে তাকে সুযোগ দেওয়া হবে।

মনিন্দ্র আগরওয়াল আরও নিশ্চিত করেন, ওই শিক্ষার্থী আইআইটি-কানপুর ও আইআইটি-মাদ্রাজের সরকারি ওয়েবসাইটের কিছু অংশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে বোঝানো হবে, কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা আইনবিরোধী এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করা উচিত নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইআইটি-কানপুরের এক কর্মকর্তা জানান, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে পরে তার দাবির সত্যতা যাচাই এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তরুণ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিভাকে উৎসাহ দেওয়ার নজির আইআইটি-কানপুরের আগে থেকেই রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে সিবিএসইর অনলাইন স্ক্রিন-মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করা এক তরুণকে প্রতিষ্ঠানটির সি৩আইহাবে কাজের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

রাজধানীতে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের আত্মহত্যা
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
ছাত্রদল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
শেরপুরে একই দিনে এক উপজেলা থেকে ৫ মরদেহ উদ্ধার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
যৌতুকের ৫০ লাখ টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন, এসিল্যান্ড…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে ডিএনএর মিল পাওয়া গেলো নবজাত…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
বাবার লাশ রেখে সম্পত্তির বিরোধে দুই ভাইয়ের মারামারি, আহত ৪
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬