জানাজায় শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও কার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার দীর্ঘ ৪ মাস পর অবশেষে তার দাফন ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী সাধারণত মরদেহ দ্রুত দাফনের নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় বিশাল আয়োজনের কারণে তার দাফন এতদিন বিলম্বিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় এবং সপ্তাহব্যাপী চলমান জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে খামেনির মরদেহ সংরক্ষণের জন্য মূলত উন্নত ফরেনসিক প্রযুক্তি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। খবর নিউজ এইটিনের
ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক মমিকরণ বা কেমিক্যাল এমবামিং (মরদেহে রাসায়নিক তরল প্রবেশ করিয়ে পচন রোধ করা) সাধারণত নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়। শিয়া ফিকাহ বা আইনশাস্ত্রেও মরদেহ বিকৃত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই খামেনির মরদেহ সংরক্ষণে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি।
মৃত্যুর পর থেকে জানাজা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় চার মাস খামেনির মরদেহ ইরানের একটি আধুনিক ও সুরক্ষিত ফরেনসিক মর্গের বিশেষায়িত কোল্ড-স্টোরেজে সম্পূর্ণ হিমায়িত করে রাখা হয়েছিল। সেখানে ২° থেকে ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা বজায় রাখার মাধ্যমে মরদেহের প্রাকৃতিক পচন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া হয়। শিয়া আইন অনুযায়ী, বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে ফতোয়ার মাধ্যমে এভাবে মরদেহ হিমায়িত করে রাখার অনুমতি রয়েছে।
বর্তমানে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে সপ্তাহব্যাপী যে জানাজা ও শোভাযাত্রা চলছে, সেখানে মরদেহ বহনের জন্য একটি বিশেষভাবে তৈরি কফিন বা বাক্স ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কফিনে নাইট্রোজেন গ্যাস এবং ড্রাই আইস প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। কফিনের ভেতর থেকে অক্সিজেন বের করে দিয়ে নাইট্রোজেন পূর্ণ করা হয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়া বা কোনো ধরনের পচনশীল অণুজীব জন্মাতে দেয় না। পাশাপাশি ড্রাই আইস তীব্র গরমেও কফিনের ভেতরের পরিবেশকে বরফ-শীতল রাখে, যার ফলে খোলা রাস্তায় দীর্ঘস্থায়ী শোভাযাত্রার সময়ও মরদেহ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকছে।
ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন পবিত্র শহর (তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা) ঘুরে কয়েক মিলিয়ন মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে খামেনির মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।