জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাবিতে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের মিছিল © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলকে ‘নিষিদ্ধ’ করার দাবি ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনও শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এ সময় তারা জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা আওয়ামী ও বামপন্থী ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা হস্তান্তর করে তাদের শাস্তি ও নীল দল নিষিদ্ধের দাবি জানান।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিগত সরকারের সময়ে বিতর্কিত ও ছাত্রবিরোধী ভূমিকা পালনকারী শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত করতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সিন্ডিকেটের সভা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এতে কাউকে দোষী পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি কোনও সংগঠনকেও যদি এতে যুক্ত পাওয়া যায়, সেটিও নিষিদ্ধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দের’ ব্যানারে অভিযোগ দেওয়ার পর ভিসি স্যারের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে কোনও শিক্ষককে দোষী পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও সংগঠন জড়িত থাকলেও তাদেরকেও নিষিদ্ধা করা হবে বলে জানান তিনি।
আরও খবর: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে ইসিকে জামায়াতের চিঠি
জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নীল দল এবং তাদের অনুসারীদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় এ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হল- ২০২৪ সালে ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর থেকে যখন সারা দেশে শত শত শিক্ষার্থী শহীদ হচ্ছিলেন, তখন ২০২৪ সালের ১লা আগস্ট নীল দলের শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্লজ্জভাবে শিক্ষার্থীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মহলের ষড়যন্ত্রের ক্রীড়নক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্দোলন পরিহার করার আহবান জানিয়ে সরাসরি ছাত্রহত্যার পক্ষে অবস্থান নেয়।
পাশাপাশি নীল দলের শিক্ষকরা ৩০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে সে সময়ে সংঘটিত গণহত্যার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করায় সাদা দলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ করে মামলা করার হুমকি প্রদান করে। ৩ আগস্ট নীল দলের ব্যানারে তারা একটি র্যালি ও মানববন্ধন করে।
সেখানে ব্যানারে ‘কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সকল হত্যা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের দ্রুত বিচার’ দাবি করা হয়। এই মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা মূলত শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরই নাশকতার জন্য দায়ী করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।