প্রযুক্তিটির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক © টিডিসি ফটো
কাঁঠালের বীজ থেকে ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (মিনারেল কনসেন্ট্রেট) তৈরির একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্টও পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গাকৃবির খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেনের যৌথ গবেষণায় তিন বছরের প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়। গবেষণাটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (GARE) প্রকল্প। পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) প্রযুক্তিটির পেটেন্ট প্রদান করে।
গবেষকদের দাবি, শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকলেও নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তা ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশের বেশি খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে খনিজের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
গবেষকদের মতে, এই মিনারেল কনসেন্ট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করে অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কাঁঠালের বীজের অপচয় কমিয়ে কৃষিজ বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর, পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের বিকাশে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি শুধু একটি পেটেন্ট অর্জন নয়, দেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের উপযোগী প্রযুক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।
প্রযুক্তিটির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, বাণিজ্যিকভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে নতুন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উন্নয়ন, কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের পর এটি প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯৭টি উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে।
প্রসঙ্গত, পেটেন্ট হচ্ছে একচেটিয়া অধিকার, কোনো কিছু উদ্ভাবনের জন্য এটা অনুমোদন করা হয়। উদ্ভাবনটি হতে পারে একটি পণ্য বা একটি প্রক্রিয়া যা কোনো কিছু সম্পাদনের নতুন পদ্ধতি প্রদান করে বা কোনো সমস্যার নতুন কারিগরী সমাধান প্রস্তাব করে। একটি পেটেন্ট, এর মালিককে তার উদ্ভাবনের সুরক্ষা প্রদান করে। সীমিত সময়ের জন্য এই সুরক্ষা বলবৎ থাকে, সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত।