খামেনির শোকানুষ্ঠান

 ‘এক দল আল্লাহর পথে, অন্য দল কাফের’— এই আয়াতের মাধ্যমে সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?

০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ PM
ইরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে সৌদি প্রতিনিধি দল

ইরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে সৌদি প্রতিনিধি দল © সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সামনে পৃথক পৃথক কোরআনের আয়াত তেলাওয়াতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদলের জন্য নির্দিষ্ট আয়াত নির্বাচন করে তেহরান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াতকে অনেকেই রিয়াদের উদ্দেশে একটি প্রতীকী ও ‘তিক্ত বার্তা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

শোকানুষ্ঠানে সৌদি প্রতিনিধিদল প্রয়াত নেতা আলী খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে গেলে সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। আয়াতটি বদর যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে, যেখানে সংখ্যায় ও সামরিক শক্তিতে দুর্বল মুসলিম বাহিনী আল্লাহর সাহায্যে বৃহত্তর বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল।

সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াতের প্রেক্ষাপট বদর যুদ্ধ। এ আয়াতে বলা হয়েছে, দুইটি দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় মানুষের জন্য শিক্ষা রয়েছে। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল, আরেক দল ছিল অবিশ্বাসী। বাহ্যিকভাবে উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষকে নিজেদের তুলনায় অধিক শক্তিশালী মনে করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তার ইচ্ছানুযায়ী মুমিনদের সাহায্য করেন এবং বিজয় দান করেন। আয়াতটিতে আল্লাহর সাহায্য, ঈমান, ধৈর্য ও দৃঢ়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

তাফসিরবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, বদর যুদ্ধে কুরাইশ বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার। তাদের কাছে ছিল প্রায় ৭০০টি উট, ১০০টি ঘোড়া এবং পর্যাপ্ত যুদ্ধসরঞ্জাম। অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সদস্য ছিলেন মাত্র ৩১৩ জন। তাদের কাছে ছিল মাত্র ৭০টি উট, দুটি ঘোড়া, ছয়টি লৌহবর্ম ও আটটি তরবারী। যুদ্ধের শুরুতে উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষকে নিজেদের তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী মনে করেছিল। এতে কুরাইশদের মনে মুসলিমদের প্রতি ভীতি সৃষ্টি হয় এবং মুসলিমরা আল্লাহর সাহায্যের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন। পরে যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে আল্লাহ উভয় দলকেই একে অপরকে তুলনামূলক কম সংখ্যক দেখতে দেন, যাতে কোনো পক্ষ যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে না যায়।

তাফসিরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বদর যুদ্ধের অন্যতম শিক্ষা হলো— সংখ্যা বা সামরিক শক্তি নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যই বিজয়ের মূল কারণ। মুসলিমরা সংখ্যায় ও অস্ত্রে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার কারণে বিজয় অর্জন করেন। বিপরীতে কুরাইশরা সংখ্যাধিক্য ও অস্ত্রশক্তির অহংকারে পরাজিত হয়।

মুফাসসিরদের মতে, আয়াতটি আরও একটি মৌলিক নৈতিক পার্থক্য তুলে ধরে। বদরের ময়দানে একদল আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছিল, আর অন্যদল তাগুত, শিরক ও অবিশ্বাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এ ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ দেখিয়েছেন, প্রকৃত বিজয় নির্ভর করে ন্যায়, ঈমান ও তার সাহায্যের ওপর; কেবল সংখ্যাগত শক্তি বা সামরিক সক্ষমতার ওপর নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান প্রতীকীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতকে বদর যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছে। ইরান শুধু যুদ্ধ থেকে টিকে যায়নি, বরং আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ইতিহাস অনুযায়ী, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরবের ভূখণ্ডেই বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সে কারণে সৌদি প্রতিনিধিদের সামনে ওই আয়াত তেলাওয়াতকে অনেকেই একদিকে ইসলামের প্রথম দিককার বিজয়ের স্মারক হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে এটিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে একটি সূক্ষ্ম কটাক্ষ বলেও ব্যাখ্যা করছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবস্থান নেয়নি, তবে নীরবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে ছিল। এমনকি কয়েকটি প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে সৌদির গোপন তৎপরতার অভিযোগও উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বদর যুদ্ধের আয়াত আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

খামেনির জানাজায় সৌদি আরব ছাড়াও ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যদিও ইরান বলছে প্রায় ১০০ দল অংশ নেবে। ইরানের দৃষ্টিতে এটি ছিল একটি কূটনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের জনগণকে জানাতে চেয়েছে যে রাষ্ট্র এখনও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে মিত্রদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছে যে তেহরান ভেঙে পড়েনি এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও বার্তা দিয়েছে যে তাদের অবস্থান ও ভূমিকা ইরান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি, ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং আফগানিস্তানের তালেবানের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোর মূল বিষয় ছিল শহীদত্ব, আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা এবং বিজয়।

আরও পড়ুন: খামেনির শোকানুষ্ঠানে স্পিকারের সামনে বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে আয়াত তেলাওয়াত, এর অর্থ ও ব্যাখ্যা কী?

হামাসের প্রতিনিধিদের সামনে এমন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে— আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার যারা সত্যে পরিণত করেছেন, তাদের কেউ শাহাদাতবরণ করেছেন, আবার কেউ সেই সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেননি।

হিজবুল্লাহর জন্য নির্বাচিত আয়াতে প্রকৃত মুমিনদের জন্য বিজয় ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিশ্রুতি এবং শহীদদের মর্যাদার কথা তুলে ধরা হয়।

ইয়েমেনের হুথিদের সামনে সূরা আল-ফাতহর ২৯ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। এতে চাপের মুখেও দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সংহতির কথা উল্লেখ রয়েছে।

ইরাকের হাশদ আল-শাবি এবং ইরাকের জন্য পাঠ করা আয়াতে বলা হয়, আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা মৃত নন; বরং জীবিত, যদিও সাধারণ মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে না।

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ ও তালেবানের সামনে সূরা আল-ফাতহর সূচনা অংশ তেলাওয়াত করা হয়, যেখানে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-এর কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একই আয়াত দুটি ভিন্ন সংগঠনের জন্য ব্যবহার করে তেহরান তাদের আদর্শিক ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে তালেবানের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয় এবং ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরার ইঙ্গিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ভারত এবং মিসরের দ্বিতীয়বারের তেলাওয়াতে তুলনামূলক শান্ত প্রকৃতির আয়াত নির্বাচন করা হয়। এসব আয়াতে যুদ্ধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতা, আশ্বস্ত করা এবং পুরস্কারের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

রাশিয়ার জন্য পাঠ করা আয়াতে বলা হয়, যারা পৃথিবীতে জুলুম ও দুর্নীতি করতে চায় না, পরকালে তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আবাস এবং চূড়ান্ত সফলতা ন্যায়পরায়ণদের জন্য।

চীনের জন্য নির্বাচিত আয়াতে বলা হয়, আল্লাহ এটিকে সুসংবাদ ও অন্তরের প্রশান্তির জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং প্রকৃত বিজয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

ভারতের সামনে হিজবুল্লাহর জন্য ব্যবহৃত একই আয়াতের একটি অংশ পাঠ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে— দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তবে শহীদ ও অবাধ্যদের প্রসঙ্গ সেখানে রাখা হয়নি।

মিসরের দ্বিতীয় তেলাওয়াতে বলা হয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব রাষ্ট্র ইরানকে কূটনৈতিক বৈধতা দিলেও তাদের ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং নির্বাচিত আয়াতগুলো ছিল ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং মিসরের প্রথম তেলাওয়াতকে বিশ্লেষকরা মধ্যবর্তী অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

কাতারের জন্য সূরা আল-ফাতহর ‘সুস্পষ্ট বিজয়’-সংক্রান্ত একই আয়াত তেলাওয়াত করা হলেও তা কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে।মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করতেই এ আয়াত নির্বাচন করা হয়।

তুরস্কের প্রতিনিধিদের সামনে এমন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যেখানে জান-মাল দিয়ে সংগ্রামকারীদের মর্যাদা পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে। যদিও যুদ্ধের শুরু থেকেই আঙ্কারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘যুদ্ধে আসক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছিলেন।

পাকিস্তানের জন্য নির্বাচিত আয়াতে সম্মানজনক প্রবেশ ও সম্মানজনক প্রস্থানের জন্য দোয়া করা হয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসলামাবাদ ও দোহা কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

মিসরের প্রথম তেলাওয়াতে জান্নাতের সুসংবাদের আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে যুদ্ধের কোনো প্রসঙ্গ ছিল না। এসব রাষ্ট্র একদিকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, কূটনীতি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে তারা নিজেদেরকে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবেও উপস্থাপন করতে চায়নি।

লেবাননের সরকারি প্রতিনিধিদলের জন্যও তুলনামূলক কঠোর বার্তাবাহী আয়াত নির্বাচন করা হয়। তাদের সামনে সূরা আন-নিসার ৬৬ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়, যেখানে ত্যাগ, আনুগত্য এবং কঠিন দায়িত্ব পালনে অনীহার প্রসঙ্গ রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের জন্য সূরা আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করেছে। ওই আয়াতে বলা হয়েছে— ‘মিনাল মুমিনীনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি; ফামিনহুম মান কাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ানতাজির; ওয়া মা বাদ্দালু তাবদিলা।’

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঈমানদারদের মধ্যে এমন একটি দল থাকবে, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূরণ করবে এবং করে যাবে। আল্লাহ তাআলা যখন রূহের জগতে ‘আলাস্তু বিরাব্বিকুম’ বলে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন সব মানুষই স্বীকার করেছিল ‘আপনিই আমাদের রব।’ অর্থাৎ আল্লাহই একমাত্র আইনদাতা, বিধানদাতা, রিজিকদাতা ও সবকিছুর মালিক। এই অঙ্গীকারে অবিচল থাকা ঈমানদারদের একটি অংশ আল্লাহর দ্বীনের পথে চলতে গিয়ে শহীদ হবে এবং আরেকটি অংশ শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেই পথেই অটল থাকবে।

তিনি বলেন, যারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন, আল্লাহর বিধান ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন, তারা শিরকমুক্ত, বিদআতমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, অপরাধমুক্ত, মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। তাদের মধ্যে কেউ শহীদ হন, আবার কেউ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

ড. খলিলুর রহমান মাদানী আরও বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের জন্য কাজ করতে গিয়ে একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে আল্লাহর কাছে চলে গেছেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে রাবেতার এক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এই আয়াত হয়তো সেই সময়ের ঘটনা নিয়েও আমাদের একটি বার্তা দিতে পারে। 

আবার ইরানের সরকার বর্তমান একাই যুদ্ধে লড়েছেন। আগামীতে তারা বাংলাদেশকে তাদের সঙ্গে দেখার জন্য হয়তো একটি বার্তা দিতে আয়াতটি তারা নির্বাচন করতে পারেন। কারণ, যারা এক কালিমায় বিশ্বাসী মুসলমান, তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, একই বিশ্বাসের অনুসারী। একদল ইতোমধ্যে শহীদ হয়েছেন এবং আরেকদল শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেই পথেই অটল থাকবেন। 

তিনি বলেন, আমার মনে হয় ইরান প্রতিটি দেশের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একটি করে আয়াত তিলাওয়াত করেছে।

যে পাঁচ কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হলো ট্রাম্পের
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির ফলাফলে ধস, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে মাইকিং
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দুই যুগেও মেলেনি এমপিও, ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রাণ গেল…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে তদন্ত করছে সরকার
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জায়গা দখল করে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান, নিউজ করায় সাংবাদিকে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950