বিশ্ববাজারে কমল ইউরিয়া সারের দাম

২২ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ PM
ইউরিয়া সার

ইউরিয়া সার © সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো ইউরিয়া সারের দাম নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখনো জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকটের ধাক্কা কেটে গেছে—ব্যবসায়ীদের এমন পূর্বাভাসের পর সারের বাজারে এই বড় দরপতন ঘটল।

পণ্যবাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে বেঞ্চমার্ক মধ্যপ্রাচ্য ইউরিয়া সারের দাম গত এপ্রিলের রেকর্ড টনপ্রতি ৯১৮ ডলার থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে বর্তমানে ৪৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও সারের দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে গেছে।

তবে ইউরিয়া সারের দাম কমলেও ফসফেট সারের দাম এখনো চড়া রয়েছে। এর প্রধান কারণ ফসফেট উৎপাদনে অপরিহার্য উপাদান ‘সালফার’-এর তীব্র সংকট। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক সালফার বাণিজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। সংঘাতের কারণে চীন ও ভূমধ্যসাগরীয় বাজারে সালফারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি (১১০ থেকে ১৩৩ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশই কৃত্রিম নাইট্রোজেন-ভিত্তিক সারের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে ইউরিয়া সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের খবর আসার আগেই বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার দাম কমতে শুরু করেছিল। মূলত মৌসুমী চাহিদা হ্রাস এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইউরিয়া উৎপাদনকারী দেশ চীন কর্তৃক গত ১ জুন থেকে পুনরায় সার রপ্তানি শুরুর ঘোষণার পর ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেন যে বিশ্ববাজারের সবচেয়ে খারাপ সময়টি পার হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তরেরো অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, সারের দাম এখন কমলেও যে ক্ষতি হওয়ার তা ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। উত্তর গোলার্ধের অনেক কৃষক যখন দাম সর্বোচ্চ ছিল, তখন বাধ্য হয়ে চড়া দামে সার কিনেছেন কিংবা সারের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। সার ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘স্টোনএক্স’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ লিনভিলের মতে, বিশ্বব্যাপী কৃষকেরা নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার মাত্র ৫ শতাংশ কমালেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওপর এর বিশাল প্রভাব পড়েছে।

তা ছাড়া, উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশ যুদ্ধের আগেই তাদের গুদামে সার মজুত করে ফেলেছিল এবং দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো তখনো নতুন মৌসুমের জন্য কেনাকাটা শুরু করেনি। ফলে আকস্মিক দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে এক ধরনের বড় চাহিদা সংকট তৈরি হয়েছিল।

আর্থিক বাজারে দাম কমলেও সারের বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার কারণে জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। পণ্য গবেষণা গ্রুপ ‘সিআরইউ’-এর তথ্যমতে, প্রায় ৯ লাখ টন ইউরিয়া সার এখনো পারস্য উপসাগরে ভাসমান জাহাজে (ফ্লোটিং স্টোরেজ) আটকা পড়ে আছে। উৎপাদকদের স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতায় ফিরতে এবং বাজারে সারের মজুত আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রয়োজন:…
  • ২২ জুন ২০২৬
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন
  • ২২ জুন ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরুর সম্ভাব্য সময় জানাল মাউশি
  • ২২ জুন ২০২৬
বাজেট রেখে দলের গুণগান, সময় বাড়িয়েও এমপিকে ট্র্যাকে ফেরাতে …
  • ২২ জুন ২০২৬
ক্যামব্রিজ-এমআইটি-হার্ভার্ডের কনসেপ্ট নিয়ে দেশে একটি বিশ্বব…
  • ২২ জুন ২০২৬
প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা গড়তে শেকৃবিতে হিট প্রকল্পের প্রথ…
  • ২২ জুন ২০২৬