বিশ্বকাপ ট্রফি © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তিন দলের। ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে হাইতি, প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে তুরস্ক এবং জাপানের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তিউনিসিয়া। ফলে শেষ ম্যাচ বাকি থাকলেও নকআউট পর্বে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে দল তিনটির।
শনিবার মেক্সিকোর মন্টেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই তিউনিসিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে জাপান। বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যায় এশিয়ার দলটি। দুই অর্ধে দুটি করে গোল করে ৪-০ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয় সামুরাই ব্লুরা।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় জাপান। বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন দাইচি কামাদা। বাঁ দিক থেকে নাকামুরার বাড়ানো পাস জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের তীব্রতা কমায়নি জাপান। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে তিউনিসিয়া। বেশ কিছু সময় প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ৩১তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ইতাকুরার পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া তিউনিসিয়া দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও সেটি সফল হয়নি। বরং আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় জাপান। ৬৯তম মিনিটে জুনিয়া ইতোর শক্তিশালী শটে আসে দলের তৃতীয় গোল।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন উয়েদা। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করে বড় জয়ের ভিত আরও মজবুত করেন তিনি। এরপর তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ। বাকি সময়ে আর কোনো দলই উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে না পারায় ৪-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান।
এই জয়ের ফলে ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে জাপান। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ছয় পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন।
অন্য ম্যাচগুলোর ফলও কয়েকটি দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের মুখ দেখে হাইতি। একইভাবে ‘ডি’ গ্রুপে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয় তুরস্কের। তিউনিসিয়ার সঙ্গে হাইতি ও তুরস্কও দুই ম্যাচ শেষে কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। ফলে শেষ ম্যাচে জয় পেলেও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ আর নেই তাদের।
এদিকে জাপান, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে নিজেদের গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। আর তিউনিসিয়া, হাইতি ও তুরস্কের জন্য শেষ ম্যাচ এখন কেবল নিয়মরক্ষার লড়াই।