কমল জ্বালানি তেলের দাম 

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১১ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। মূলত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকট নিয়ে যে আতঙ্ক ছিল, আলোচনার খবরে তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। খবর রয়টার্সের

আজ ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেলে ১.৫২ ডলার বা ১.৫ শতাংশ কমে ৯৮.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর টেক্সাস ভিত্তিক ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেলে ৩.০৬ ডলার বা ৩.১ শতাংশ কমে ৯৬.০২ ডলারে নেমেছে।

গতকাল অবশ্য  মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। উল্লেখ্য, গত মাসে তেলের দাম রেকর্ড ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার খবরে দাম কমলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটস-এর বিশ্লেষক তামাস ভারগা জানিয়েছেন, ‘দাম কমলেও বাজারে তেলের প্রকৃত শারীরিক সরবরাহের যে ঘাটতি রয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে ইতিহাসে তেলের সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। গত মার্চ মাসেই দৈনিক ১০.১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজার থেকে হারিয়ে গেছে।

আইইএ-র মতে, বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের চাপ কমাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় সরবরাহ শুরু করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের অবরোধ এখন ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর দুটি জাহাজ প্রণালি থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাঙ্কারকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কারণ সেগুলোর গন্তব্য ইরানি বন্দর ছিল না। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গালফ অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।

সব অনিশ্চয়তার মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে ইসলামাবাদ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল আবারও পাকিস্তানে ফিরতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে তেলের দাম আবারও গত মার্চের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেলের মজুত যেভাবে কমছে, তার প্রভাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং তার পরেও স্থায়ী হতে পারে।

আইইএ তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা দৈনিক ৮০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে এবং সরবরাহ দৈনিক ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এর মধ্যেই রাশিয়া কৃষ্ণসাগরের তুয়াপসে বন্দর দিয়ে এপ্রিল মাসে তেল রপ্তানি ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ১.২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন করার পরিকল্পনা করছে।

সৌদি ফেরত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিমানবন্দরে আটক 
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
মুমেকের সাবেক অধ্যক্ষসহ দুই চিকিৎসককে ‘হয়রানিমূলক’ বদলির প্…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
উপাচার্যের অব্যাহতির খবরে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট বিশ্ববিদ্য…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব উদযাপন
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
জন্ম, বেড়ে উঠা ও পড়াশোনা একসঙ্গে—এবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সাগরে ভাসমান অবস্থায় বাংলাদেশিসহ ৯ জন উদ্ধার, দিলেন ট্রলারড…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬