পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী © সংগৃহীত
ইসরায়েলকে ‘ক্যান্সারগ্রস্ত রাষ্ট্র’ ও ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার আবহেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এই মন্তব্য করেন।
খাজা আসিফের এই বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তেল আবিবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাজা আসিফ তার পোস্টে লেখেন, ‘ইসরায়েল অশুভ এবং মানবতার জন্য অভিশাপ। ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, সেই সময় লেবাননে গণহত্যা চালানো হচ্ছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে গাজা, ইরান এবং এখন লেবাননে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে রক্তপাত ঘটিয়ে চলেছে। যারা ফিলিস্তিনের মাটিতে এই রাষ্ট্রটি তৈরি করেছে, তাদের নরকে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাজা আসিফের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, ‘ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করার যে ডাক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দিয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এমন একটি সরকারের কাছ থেকে এই বিবৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যারা নিজেকে শান্তির জন্য নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী বলে দাবি করছে।’
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’রও এই বক্তব্যকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করে আসছিল, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, এবারের ঘটনায় সরাসরি নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।