প্রস্তাব আটকে দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য দেশ রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স © টিডিসি সম্পাদিত
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি বড় ধরনের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য দেশ রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। মার্কিন গণমাধ্যম 'নিউইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রভাবশালী এই তিন দেশ তাদের ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট ওই সামরিক অভিযানের প্রস্তাবটি বাতিল করে দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালিতে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং ইরানের বাধা অগ্রাহ্য করে জলপথটি উন্মুক্ত রাখতে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা চেয়ে নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিশেষ প্রস্তাবের দাবি জানিয়েছিল আরব দেশগুলো।
জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়া, চীন এবং ফ্রান্স শুরু থেকেই যেকোনো ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমোদনের ভাষা বা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাদের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই তিন দেশের এমন অবস্থান প্রকারান্তরে ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার এবং তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ বজায় রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই বাণিজ্যিক জলপথে চলমান অচলাবস্থা এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এই ঘটনাটি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালীদের মধ্যকার গভীর ফাটল প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। একদিকে ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধবিরতির সব আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব সামরিক কৌশলে এগোচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে আরও বেশি অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।