দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো

দলিত শ্রেণির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে নেপাল

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ PM
দলিত সম্প্রদায়

দলিত সম্প্রদায় © সংগৃহীত

গণ অভ্যুত্থানের পরে দায়িত্ব নেওয়া বালেন্দ্র শাহর সরকার নেপালের দলিত শ্রেণির কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েক শতাব্দীর জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার কলঙ্ক মুছতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটি। প্রথমবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা দেশটির জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বালেন্দ্র শাহ রাষ্ট্র সংস্কারে ইতোমধ্যে ১০০ দফা সংস্কার কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে প্রথম কোন এশীয় দেশ হিসেবে দলিত সম্প্রদায়ের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করবে নেপাল।  

জানা গেছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে। নেপালের ৩ কোটি জনসংখ্যার ১৩ শতাংশেরও বেশি মানুষ দলিত সম্প্রদায়ের। হিন্দু বর্ণপ্রথা অনুসারে একেবারে তলানিতে থাকা এই মানুষগুলো বংশপরম্পরায় চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকে। বালেন্দ্র শাহের সরকার জানিয়েছে, রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর মাধ্যমে দলিতদের ওপর যে দীর্ঘমেয়াদী অন্যায় ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার ইতিহাস রয়েছে, রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করে নেবে।

নতুন সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নেপালের দলিত অধিকার কর্মীরা। দলিত সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি সরস্বতী নেপালি বলেন, ‘রাষ্ট্রের এই আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা আমাদের ক্ষতে সারানোর কাজ করবে। তবে এর পূর্ণ নিরাময় তখনই সম্ভব, যখন সরকার আমাদের সাংবিধানিক অধিকারগুলো কার্যকরভাবে নিশ্চিত করবে।’

নেপালি সংবাদপত্র ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেছে, ‘পরিবর্তন আনা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন।’ বর্তমানে নেপালের ৪২ শতাংশ দলিত দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত নগণ্য। ২০০৬ সালে নেপালকে ‘অস্পৃশ্যতামুক্ত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা হলেও এবং ২০১১ সালে বর্ণবৈষম্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলেও দেশটির নানান সিদ্ধান্তে এখনো চরম মাত্রায় বঞ্চিত হয়ে থাকেন দলিতরা।

নেপালের এই সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসেছে দক্ষিণ এশীয়ে দেশগুলো। ভারতীয় দলিত নেতা ও সংসদ সদস্য চন্দ্রশেখর আজাদ নেপালের উদাহরণ টেনে লোকসভায় ভারতের ঐতিহাসিক অবিচারের জন্য নৈতিক দায়বদ্ধতা স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। দেশটিতে ১৯৫০ সালে বর্ণবৈষম্য নিষিদ্ধ হলেও ভারতে আজও ২০ কোটি দলিত নানাভাবে নিগৃহীত।

বাংলাদেশে দলিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ লাখ। গণঅভ্যুত্থানের পরপর দলিতদের নিয়ে তরুণ নেতৃবৃন্দ কাজ করলেও সেটা অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বিশ্লেষকদের মতে, বালেন্দ্র শাহের এই সাহসী পদক্ষেপ যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জাতিভেদ প্রথা বিলোপের আন্দোলনে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে নেপালের সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সরকার।

ট্যাগ: নেপাল
২০ কৃষক পরিবারের দুই-পাঁচ-দশ টাকার সঞ্চয়ে গড়ে উঠছে আলোর পাঠ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি নিয়ে যা জা…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসির পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ ২৭ নভেম্বর
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন রাব্ব…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা ২ ডিসেম্…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ১০৭ জনে উত্তীর্ণ ১০৫, জিপিএ-৫ পেল…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬