নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ © সংগৃহীত
জেন-জি বিপ্লবে ক্ষমতার পালাবদলের পরে গঠিত হওয়া নেপালের নতুন সরকার দেশের শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ‘ছাত্র সংসদ’ চালুর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার ঘোষিত ১০০ দফা সংস্কার কার্যক্রমে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি প্রভাবযুক্ত রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে বালেন্দ্র শাহর সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দলীয় ছাত্রসংগঠনের কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেয়া হবে। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর ভিত্তিতে ‘শিক্ষার্থী কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থায় একাডেমিক পরিবেশ পুনঃস্থাপন করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি সুস্থ শিক্ষাঙ্গন তৈরি করা। সরকার মনে করছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ঘটবে।
এদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য এখন থেকে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের পেনশন এবং রেকর্ড ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আগামী অর্থবছর থেকে প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন দায়িত্ব নেওয়া সরকার।