চাঁদের পথে চার নভোচারি © সংগৃহীত
প্রায় ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে পা বাড়ালো মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার চার নভোচারী চাঁদকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। চন্দ্রাভিযানে যাওয়া এই চারজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
তবে তারা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না, বরং প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে তারা চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন। ৩২ তলা বিশিষ্ট একটি রকেটে চড়ে তারা এই যাত্রা শুরু করেছেন। রকেটটি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উড্ডয়ন করে। এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এবং রকেটটি যখন উড্ডয়ন করে তখন নাসার কর্মী ও উপস্থিত দর্শনার্থীরা চরম উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
আর্টেমিস-২ নামের এই বিশেষ মিশনের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পথ আরও সুগম করা। এই মহাকাশযানটি এর আগে কখনো মানুষ বহন করেনি। তাই অভিযানের প্রথম ধাপে মহাকাশযানটির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এছাড়া ডকিং সিমুলেশনের সময় মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাও পরীক্ষা করে দেখবেন নভোচারীরা। মূলত ২০২৮ সালে আর্টেমিস-ফোর মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় পা রাখার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক অ্যাপোলো মিশনের পর এটিই হবে নাসার প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এছাড়া চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে তাদের নভোচারী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ায় মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারের এই প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে রয়েছে। ভবিষ্যতে চাঁদের খনিজ সম্পদ আহরণ করা এবং মঙ্গলের মতো আরও কঠিন ও দূরবর্তী অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মিশনের অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
এই যুগান্তকারী অভিযানের সূচনা লগ্নে ও রকেট উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নভোচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছি।’ এরপর আর্টেমিস-২ মিশনের লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন সরাসরি নভোচারীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ‘রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা ও জেরেমি—এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন আর্টেমিস-২ দলের হৃদয়, বিশ্বজুড়ে আমাদের অংশীদারদের সমর্থন এবং নতুন প্রজন্মের আশা-স্বপ্ন। শুভকামনা। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন। এগিয়ে চলুক আর্টেমিস-২।’